মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ১ম খণ্ড, ১৯৯১ উপন্যাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ১ম খণ্ড, ১৯৯১ উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ১ম খণ্ড, ১৯৯১ উপন্যাস

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ১ম খণ্ড, ১৯৯১ উপন্যাস

‘সোনার চেয়ে দামী’ (১ম খণ্ড) উপন্যাসে সংসারে সোনা ধাতুটির প্রতি আসক্তি এবং মানসিক শাস্তির কাছে এর প্রয়োজনহীনতা দেখানো হয়েছে। উপন্যাসের শুরু হয়েছে এভাবে: “মাসখানেক গলাটা খালি সাধনার।” (৭খ, পৃ-১১৩)

সাধনা মধ্যবিত্ত ঘরের বউ। তার স্বামী রাখাল বিনা দোষে কয়েকমাস আগে চাকরি থেকে ছাঁটাই হয়েছে। রাখাল এখন তিনটা টিউশনি করে সংসার চালায়। সাধনার গলার হারটি ছিঁড়ে গেছে। লোকে মনে করে হারটি বোধহয় বিক্রি গেছে, তাই সে সবাইকে যেভাবে পারে বলে যে তার হারটি বাক্সে তোলা আছে হয় এটাকে সারাবে, নয়তো নতুন করে গড়াবে।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ১ম খণ্ড, ১৯৯১ উপন্যাস

 

রাখালের বোন, বোনের জামাই তাদের মেয়ে রেবার বিয়েতে দাওয়াত দিতে এসেও সাধনার খালি গলার দিকে তাকিয়ে থাকে। সাধনা তাদেরও কৌশলে জানায় যে হার আছে হার গলায় দিয়েই রেবার বিয়ে খেতে যাবে। এতে তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। এই হার নিয়েই তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। সাধনাদের লাগোয়া ঘরে থাকে আশা আর সঞ্জিব। তারা সাধনাদের এড়িয়ে চলে- আশার গা ভরা গহনা।

আরেক ঘরে থাকে বাসন্তী, তারও গা ভরা গহনা। রেবার বিয়েতে যাওয়া এবং রেবাকে সাধনার কানপাশা উপহার দেওয়া নিয়ে তাদের ঝগড়া হয়। রাখাল বিয়েতে যেতে না করে। পরে সাধনা বাসন্তীর কাছে হার বিক্রি করে। সাধনাদের বাড়িতে ডিম বিক্রি করতে আসে ভোলার মা। ভোলার মা একজোড়া কানপাশা রেখে কিছু টাকা চায় সাধনার কাছে। সাধনা রাজি হয়। ভোলার মার দেরি দেখে সাধনা নিজেই যায় ভোলার মার কুঁড়েতে। সেখানে ছোট ছোট অনেক কুঁড়ের কলোনি।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ১ম খণ্ড, ১৯৯১ উপন্যাস

 

ভোলার বোন দুর্গার বিয়ে, পঁচিশ টাকায় বিয়ে পার করবে তারা। সাধনা দেখে এদের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই, আছে শুধু প্রয়োজনটুকু। এখানে এসে সাধনার চোখ খুলে যায়। সে সবার সাথে বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে চায়। আশার সঙ্গে উপযাচক হয়ে কথা বলতে যায়। কিন্তু আশা কোনো আগ্রহ দেখায় না।

বাড়ি এসে রাখালও তাকে স্বার্থপর মনে করে এড়িয়ে চলে, পরদিন সকালে বিশুকে পড়াতে গিয়ে রাখাল বিশুর মার অনেক গহনা থেকে কিছু গহনা চুরি করে একুশ শ টাকায় দোকানে বিক্রি করে। এই দিনই সঞ্জিবের কাছে পাওনাদার আসে। অনেক দেনা করেছে সঞ্জিব। রাখালের পরামর্শে সব গহনা ব্যাংকে রেখে লোন নিয়ে দেনা শোধ করে তারা। এবার আশার অহংকার ভাঙে।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ১ম খণ্ড, ১৯৯১ উপন্যাস

 

রাখাল সাধনাকে নতুন হার আর রেবার বিয়েতে দেয়ার জন্য দুল এনে দেয়। বাসন্তীকে নতুন হার দেখানোর জন্য হারটি গলায় দিয়ে সাধনা বাসন্তীর বাড়ি যায়। বাসন্তীর গা খালি। বাসন্তীর স্বামীর পার্টনারের চক্রান্তের কারণে সোনা, জমানো টাকা সবই গেছে। সাধনা বাড়ি এসে হার খুলে বাক্সে তুলে রাখে আর রেবার বিয়েতে যাওয়া বাতিল করে দেয়। রাখালকে বলে তারা দুজন মিলে ভোলার বোনের বিয়ে দেখতে যাবে। উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন মূল্যবান ধাতু সোনার চেয়েও মূল্যবান মানুষের মনুষ্যত্ব। লেখক দেখিয়েছেন:

“জীবনকে সহজভাবে নিতে না পারলে ভাতে নানা জটিলতা বিকার এবং বিভ্রান্তি দেখা যায়। ১৬

সংসারের বাহুল্যকে ঝেরে ফেলতে পারলে জীবন সুন্দর এবং সুখী হয়- মানিক তা দেখিয়েছেন।

Leave a Comment