মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ২য় খণ্ড, ১৯৫২ উপন্যাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ২য় খণ্ড, ১৯৫২ উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

 

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ২য় খণ্ড, ১৯৫২ উপন্যাস

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ২য় খণ্ড, ১৯৫২ উপন্যাস

‘সোনার চেয়ে দামী’ (২য় খণ্ড) উপন্যাসটি সাধনার মানসিক ও সামাজিক উত্তরণের কাহিনী। ১ম খণ্ড থেকে ২য় খণ্ডে সাধনার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সে এখন খুব ঘুরে বেড়ায়। ঘনঘন কলোনিতে যায়। বাংলাদেশ থেকে আসা ধ্বংসপ্রাপ্ত মানুষ আবার কীভাবে জীবনকে গুছিয়ে নিচ্ছে তা জানতে সাধনার কৌতুহলের শেষ নেই।

রাখাল বিশুর মার গয়না চুরি করা টাকার ব্যবসা শুরু করেছে। রাজীবের সঙ্গে রাখাল বিড়ির দোকান দিয়েছে। সে দুটি টিউশনিও করে। সংসারে অভাব দূর হয়েছে, কিন্তু রাখালের মনে শান্তির অভাব দেখা দিয়েছে। সে মদ খেতে শুরু করে। সাধনাকে তার মনে হয় প্রতিপক্ষ। সংসারের সাধারণ মেয়েদের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। তারা আন্দোলন করে, সংগঠন গড়ে সভায় বক্তৃতা দেয়। সাধনাও সভায় যায় ।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ২য় খণ্ড, ১৯৫২ উপন্যাস

 

পাশের কলোনির মালিক প্রভাতবাবু কলোনি উঠিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। কৌশলে সে বলে, কলোনির জায়গায় কারখানা হবে, এই কারখানায় কলোনির লোকেরা চাকরি করবে। তাই কলোনিকে তার এক জলাজমিতে স্থানান্তর করতে চায়। রাখাল এই চালাকি ধরতে পারে না। কিন্তু সাধনা বুঝতে পারলো। সাধনার কথার শেষপর্যন্ত প্রভাতবাবু লিখিত প্ৰতিশ্ৰুতি দিতে বাধ্য হলো। এভাবে সাধনা আর রাখালের মধ্যে দুরত্ব গড়ে ওঠে।

সাধনার জনপ্রিয়তা আস্তে আস্তে বেড়ে যায়। পাবলিক মিটিং এ বক্তৃতা দেওয়ার জন্য সাধনার ডাক আসে। এসব কারণে রাখাল আরো বিব্রত হয়। এতে রাখালের মত নেই। সে সব দিক দিয়ে মধ্যবিত্ত ঠাঁট বজায় রাখতে চায়। কিন্তু সাধনার কাছে এসব এখন নিছক ফাঁকি। নিচের তলার জীবন দেখে সাধনা মুগ্ধ হয়। তাদেরও দুর্দশা আছে, কিন্তু মৃত জীবনের ভূতের বোঝা নেই। প্রভাতের সব প্রতিশ্রুতি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। রাখাল তার ভুল বুঝতে পারে।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোনার চেয়ে দামী ২য় খণ্ড, ১৯৫২ উপন্যাস

 

“চারিদিকে ভাঙনের ছবি রাখালের চোখ খুলে দেয়। ১৭ সাধনার ওপর থেকে রাগ উঠে যায়। তারা ঠিক করে প্রভাতের বিরুদ্ধে একত্রে সংগ্রাম করবে। সমস্ত অন্যায় আর সংস্কারের বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম। উপন্যাস শেষ হয়েছে সাধনার কথা দিয়ে

“কথা আমাদের সারা জীবনে ফুরোবে না, পা চালিয়ে এগিয়ে চলো।” (৭খ, পৃ-২৫৮) শেষ কথায় বলা যায়:

“সোনার চেয়ে দামী মানিকের সমাজ সচেতন একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস আর সাধনা যশোদা রাস্তারই পরিণত রূপ।

ব্যক্তিজীবনের ক্ষুদ্র আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যেতে না থেকে সাধনার অনুভূতির মাধ্যমে লেখক দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দুরাবস্থাকে মানবজীবনের প্রধানতম সমস্যায় রূপ দিয়েছেন।

Leave a Comment