বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের সূচিপত্র

আজকে আমরা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের সূচিপত্র আলোচনা করবো।

 

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের সূচিপত্র

 

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের সূচিপত্র

আমার এম. ফিল. অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটক (১৯৪৭-১৯৯০)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ-এর তত্ত্বাবধানে আমি এম. ফিল. কোর্সে নিবন্ধন লাভ করি এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং প্রফেসর আবুল কাসেম ফজলুল হক-এর কাছে এম. ফিল. প্রথম পর্বের কোর্সসমূহ অধ্যয়ন করি।

বর্তমান অভিসন্দর্ভের সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও রূপরেখা-নির্মাণে আমার গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ-এর নিরন্তর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। তাঁর অনাবিল আন্তরিকতা, সুচিন্তিত পরামর্শ ও প্রাজ্ঞ নির্দেশনা আমার গবেষণাকর্মকে সহজসাধ্য করে দিয়েছে। তাঁর কাছে আমি বিশেষভাবে ঋণী।

 

গবেষণাকালে নানা পর্যায়ে প্রাজ্ঞ পরামর্শ ও মূল্যবান অভিমত দিয়ে প্রফেসর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, প্রফেসর আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ, প্রফেসর সৈয়দ আকরম হোসেন প্রমুখ আমাকে গভীর কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। এইসব শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের কাছে আমি গভীরভাবে ঋণী।

তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের সময় বিশেষভাবে সাহায্য পেয়েছি নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদ এবং মামুনুর রশীদ-এর কাছ থেকে। নাট্য সংগঠক রামেন্দু মজুমদারও আমাকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছেন। এঁদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। বাংলা একাডেমীর উপপরিচালক ড. সুকুমার বিশ্বাসের সহযোগিতার কথাও এ-প্রসঙ্গে আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি ।

গবেষণাকালে আমি প্রধানত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার এবং বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগার ব্যবহার করেছি। এ-সূত্রে গ্রন্থাগার-কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারিবৃন্দকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের কর্মকর্তা শ্রী রতনকুমার দাসের সহযোগিতার কথাও আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি ।

 

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের সূচিপত্র

 

সূচিপত্র

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের অবতরণিকা

প্রথম অধ্যায়

প্রথম পরিচ্ছেদঃ ঐতিহাসিক নাটক : স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ বিভাগ-পূর্ববর্তী বাংলা ঐতিহাসিক নাটক

দ্বিতীয় অধ্যায়

সিকান্দার আবু জাফর

তৃতীয় অধ্যায়

মুনীর চৌধুরী

চতুর্থ অধ্যায়

আসকার ইবনে শাইখ

পঞ্চম অধ্যায়

সাঈদ আহমদ

ষষ্ঠ অধ্যায়

সৈয়দ শামসুল হক

সপ্তম অধ্যায়

মামুনুর রশীদ

 

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের সূচিপত্র

 

উপসংহার

বাংলাদেশের নাট্যসাহিত্যের ধারায় ঐতিহাসিক নাটক একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। বাংলাদেশের প্রধান নাট্যকারের অনেকেই ঐতিহাসিক নাটক রচনা করেছেন। এ-ধারায় যাঁরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তাঁরা হচ্ছেন সিকান্দার আবু জাফর, মুনীর চৌধুরী, আসকার ইবনে শাইখ, সাঈদ আহমদ, সৈয়দ শামসুল হক এবং মামুনুর রশীদ। এই সব নাট্যকারের সম্মিলিত সাধনায় সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাট্যধারা।

সিকান্দার আবু জাফর বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার ট্রাজিক ইতিহাস নিয়ে নাটক রচনা করেছেন। সিরাজ-উ-দ্দৌলার করুণ ইতিহাসকে তিনি সমকালীন জীবনচেতনার সঙ্গে সাফল্যের সঙ্গে বিমণ্ডিত করে তুলেছেন। মুনীর চৌধুরী পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে নাটক রচনা করেছেন। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে লেখা মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে চিত্রিত হয়েছে এ-কালের যুদ্ধবিরোধী চেতনা।

আসকার ইবনে শাইখ তাঁর ত্রয়ী ঐতিহাসিক নাটকে বাঙালির সংগ্রামী ঐতিহ্যের শিল্পরূপ নির্মাণ করেছেন। তাঁর নাটকের মধ্যেও ইতিহাসের সঙ্গে সমকালীন চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। সাঈদ আহমদ তাঁর শেষ নবাব নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলার ট্র্যাজিক পরিণতিকে করে তুলেছেন সমকালস্পর্শী।

সৈয়দ শামসুল হক ১৭৮৩ সালের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহের আলোয় বাঙালির সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথা চিত্রিত করেছেন। দুশো বছরের পুরোনো কৃষক-বিদ্রোহ আর ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ তাঁর কাছে একই লক্ষ্যের দুই ভিন্ন প্রকাশ বলে মনে হয়েছে। মামুনুর রশীদ তাঁর নাটকে বাংলা নাটকের অতীত এক প্রান্তকে পাঠক-দর্শকের সামনে উপস্থিত করেছেন। তাঁর লেবেদেফ নাটক বাংলা নাটকের উৎস সন্ধানে এক স্মরণীয় সংযোজন।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাট্যকারদের কৃতিত্ব এই যে, তাঁরা হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল মানবতাবাদী ধারাটির সঙ্গে নিজেদের সৃষ্টিকে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের যে-সব নাট্যকার ঐতিহাসিক নাটক রচনা করেছেন, তাঁরা সকলেই জীবনের সদর্থক ইতিবাচক কল্যাণকর মানবতাবাদী চিন্তা প্রকাশে অকুণ্ঠ।

 

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকের সূচিপত্র

 

প্রগতিশীল সমাজচেতনাও এঁদের সহজাত লক্ষণ। ফলে ইতিহাসের ধূসর প্রান্তর থেকে তাঁরা সে-সব উপাদানই সংগ্রহ করেছেন, যেগুলো প্রকাশ করতে পারে তাঁদের প্রগতিশীল মানবকল্যাণকামী মানসপ্রবণতা। এ কারণে স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে সর্বব্যাপ্ত হতাশার সময় বাংলাদেশের সাহিত্যের অন্যান্য শাখায় যেখানে হতাশা আর ব্যর্থতার কথামালা, বাংলাদেশের নাটক তখন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।

ইতিহাসের বিশাল ডানায় ভর করে বিপর্যয়কে অতিক্রম করতে চেয়েছেন বলে আমাদের নাট্যকাররা খণ্ড-মানসিকতার শিকার হন নি। এ-কারণে বাংলা ঐতিহাসিক নাটক যেখানে হয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী চিন্তা অথবা মুসলিম জাতীয়তাবাদী ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ক্রমশ ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে, সেখানে আমাদের নাট্যকাররা ক্ষুদ্র সাম্প্রদায়িক চিন্তা থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে প্রকাশ করেছেন সর্বমানবিক এক কল্যাণকামী দর্শন।

বাংলা ঐতিহাসিক নাটকের ধারায় বাংলাদেশের নাট্যকারদের এ-এক মৌলিক অবদান। পরবর্তী প্রজন্মের নাট্যকারদের মানসগঠনে এই মানবিক চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই দৃষ্টিকোণে বিচার করলে, আলোচিত ঐতিহাসিক নাটকসমূহ বিশেষ সার্থকতা দাবী করতে পারে।

উত্তরকালীন লেখকদের প্রভাবিত করতে পারাই যে-কোন স্রষ্টা বা তাঁর সৃষ্টির পরম লক্ষ্য। এই দৃষ্টিকোণেও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটকসমূহ অর্জন করেছে কালোত্তীর্ণ মহিমা।

Leave a Comment