মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপন্যাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপন্যাস

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপন্যাস

‘পাশাপাশি’ (১৯৫২) উপন্যাসটি এক আদর্শবাদী যুবকের কাহিনী। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ উপন্যাসে দেখিয়েছেন জীবন যাপনের প্রচলিত ধারণার বাইরে মনুষ্যত্বের এক মহৎ উদ্যোগ। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুনীল। সে তিনশ টাকা বেতনে চাকরি করে।

মা বাবা ভাই বোনের সংসার কাঁধে নিয়ে বিয়ের চিন্তা বাতিল করেছে। তাই আত্মীয় বন্ধু পরিবারের সকলে তাকে হৃদয়হীন বলে। সুনীল স্বাভাবিক নিয়মে খাওয়া-দাওয়া, ওঠা-বসা করে। এমনকি সংসারের সচ্ছলতার জন্য টিউশনি এবং পার্টটাইম কাজ করে। পার্টটাইম কাজ করতে গিয়ে সুনীলের পরিচয় হয় মায়ার সঙ্গে। মারাও বাবা-মায়ের সংসার মাথায় নিয়ে কাজ করছে। সেও বিয়ের চিন্তা বাতিল করেছে। সংসারের নানা বিষয় নিয়ে সুনীল মারার সঙ্গে আলোচনা করে, কিন্তু তাদের প্রেম হয় না। সুনীল চাকরি করে অঘোরের অফিসে।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপন্যাস

 

আবার অঘোরের এক মাত্র মেয়ে বিভা সুনীলের ছাত্রী। নীতিবোধ আর সততার জন্য বিভা সুনীলকে খুব পছন্দ করে। বিভা খোড়া, রঙও কালা, দেখতে সুশ্রী নয়, তিনবারে বি.এ. পাস করেছে। মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক ছেলেকে বড় পোস্ট চাকরি দিতে চায় অঘোর, অনেকে রাজিও হয়, কিন্তু শুধু টাকার জন্য যারা আসে তাদের পছন্দ করে না বিভা। বিভার মন পড়ে আছে সুনীলের কাছে।

সুনীল পঁচিশ টাকা বেতনে ইংরেজি শেখার নন্দাকে। নন্দার বাবার ইংরেজি দৈনিক ‘দি পিপলস ভয়েস’ ঠিকভাবে চালানোর জন্য সে ইংরেজি শিখছে। সুনীল নন্দার কাগজে প্রবন্ধ লেখে। তা নিয়ে সুধী মহলে হৈ চৈ পড়ে। তারপর খবরের কাগজের দায়িত্বও সুনীলের ঘাড়ে এসে পড়ে। সুনীল চাকরি ছেড়ে কাগজকে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লাগে। এ সময় সুনীল মায়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মায়া তার কাছে সময় নেয়।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপন্যাস

 

এদিকে কাগজের জন্য অনেক টাকা দরকার পড়ে। টাকার জন্য সে বিভাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিভা রাজি হয়। সুনীল বার বার বলে টাকার জন্য সে বিভাকে বিয়ে করছে, তবে স্ত্রীর অমর্যাদা সে করবে না। বিভা বলে টাকাটা সে মহৎ কাজের জন্য নিচ্ছে, নিজের জন্য নয়, এই মহৎ সুনীলকেই বিভা ভালোবাসে। সে বলে:

“বাবা যদি অন্যায় করে তোমার কাছে কিছু বাগাতে চায়, বাবার সঙ্গে ঝগড়া করতে আমার দোটানার কষ্ট হবে না।” (খ, পৃ-২৭৯)

এরপর

“বিভার জোড়ালো আত্মবিশ্বাস সত্যই বুকে বল এনে দেয় সুনীলের। অনেকটা হালকা মন নিয়ে সে কাগজের অপিসে যায়।” ( খ, পৃ-২৭৯) এ উপন্যাসে লেখক বিভার মধ্য দিয়ে প্রেমের একটি নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন আর সুনীলের মধ্য দিয়ে সমাজ পরিবর্তনকে দেখিয়েছেন:

“এই উপন্যাসের মূলকথা প্রেমের চেয়ে তার জীবন বড়। জীবনের চেয়ে নীতি। ২০

উপন্যাসে সমাজ জীবনের লোভ-লালসার সঙ্গে নীতি এবং প্রেমের একটি সমন্বয় সাধিত হয়েছে।

Leave a Comment