মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীয়ন্ত উপন্যাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীয়ন্ত উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীয়ন্ত উপন্যাস

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীয়ন্ত উপন্যাস

‘জীয়ন্ত’(১৯৫০) উপন্যাসটি স্বদেশীদের কেন্দ্র করে লেখা। উপন্যাসে লেখক স্বাধীনতাপূর্ব ভারতবর্ষের গ্রামবাংলা, ঢাকাশহর এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি শহরের চিত্র এঁকেছেন। এর মধ্য দিয়ে তখনকার বঙ্গসমাজের পরিচয় পাওয়া যায়। উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে প্রকাশ রায় বা পাকা নামের একটি কিশোর ছেলেকে কেন্দ্র করে। উপন্যাসের শুরু হয়েছে এভাবে: “নয়নতারা ক্লাব ও পাঠাগারের বড় হল ঘরটাতে আজ সন্ধ্যায় একটি সভা বসেছে।”(৬খ,পৃ-৩১৮)

এই সভায় পাকার বিচার হবে। পাকা ক্লাব লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ানের গায়ে হাত তুলেছে। পাকার মামা ভৈরব ক্লাবের সভাপতি। ভৈরবের প্রতিদ্বন্দ্বী ভুবন ভৈরবকে শাস্তি দিতেই মূলত এই সভার আয়োজন করেছে। কলকাতা থেকে এসেছে পাকার দূরসম্পর্কের মামা ব্যারিস্টার অনস্ত। অনন্ত ভুবনের পরিকল্পনা ধূলিস্যাৎ করে দেয়।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীয়ন্ত উপন্যাস

 

এ অঞ্চলে স্বদেশী নেতা কালীনাথ। তার একটি শরীরচর্চার ক্লাব আছে। পাকা এর সদস্য। পাকা বিচারের পর কৌতূহলবশে খারাপ পাড়ায় যায়, এই অপরাধে কালীনাথ তার ক্লাব থেকে পাকাকে বহিষ্কার করে এবং পাকার বন্ধু কানাইকে দলে নিয়ে নেয়। এতে পাকা খুব ক্ষুব্ধ হয়, কিন্তু কালীনাথের কাজ সে পছন্দ করে তাই তাদের কথা পুলিশকে বলে না। শুধু তার বন্ধু পাঁচুকে বলে। পাঁচু আটুলিগার ছেলে। পাকা পাঁচুর সঙ্গে তাদের গ্রামে যায়।

ভৈরব বাবুর ভাগ্নে ধনদাসের বাড়ি এসেছে শুনে গ্রামের জমিদার বসন্তবাবু অবাক হয়ে যায়। আবার খাজনা বন্ধের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিল পাঁচুর কাকা জ্ঞানদাস, তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পাকার এ বাড়িতে আসার কারণে পুলিশ জ্ঞানদাসকে ছেড়ে দেয়। পাকা বাড়ি ফিরে আসার পর শহরে একটি স্বদেশী ডাকাতি হয়। এতে স্বদেশী প্রমীলার প্রেমিক অমিত মারা যায়। অমিতকে দেখে প্রমীলা আর পাকা ফেরার সময় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে ।

প্রমীলাকে ছেড়ে দিয়ে পাকাকে পুলিশ নির্যাতন করে। কিন্তু পাকা স্বদেশীদের কথা ফাঁস করে না। অন্যদিকে কানাইয়ের বাড়ি পাঁচু বেড়াতে গেলে নিরপরাধ পাঁচুকে পুলিশ ধরে। ছাড়া পাওয়ার পর পাঁচু কালীনাথদের সঙ্গে যোগ দেয়। পাকা তখন তার বাবার সঙ্গে ঢাকা গেছে। পাঁচুকে ঢাকা যেতে চিঠি লিখেছে। কালীনাথ পাঁচুকে বলে দেয় পাকার বাবার পিস্তল নিয়ে আসতে। পাকা তার বাবার পিস্তল চুরি করে পাঁচুকে দিয়ে দেয়।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীয়ন্ত উপন্যাস

 

কয়েকদিন পর আরেকজন লোককে কালীনাথ পাঠায়। তাকে পাকা তার বাবার সরকারি পিস্তল আর সৎমায়ের গহনা দিয়ে দেয়। পাঁচুদের গাঁয়ে আসে জমিদার বসন্তবাবুর ছেলে হেমন্ত। এসেই তার নজর পড়ে গরিব চাষী গণেশের বালবিধবা মেয়ে দুকলির ওপর।

গণেশের ওপর হেমন্ত অত্যাচার চালায়। এতে পাঁচুরা ক্ষেপে যায়। রাতে তারা গণেশের বাড়ি লুকিয়ে থাকে, হেমন্ত দালাল নিয়ে এলে তাকে শায়েস্তা করে। হেমস্তকে নাকে খত্ দেওয়ায়। লজ্জায় হেমন্ত শহরে পালিয়ে যায়। গাঁয়ে পুলিশ আসে। ধনদাস, গণেশসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। জ্ঞানদাস পাঁচু আর দুকলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলে। উপন্যাসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়েছেন, স্বাধীনতার লড়াই কেবল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নয়- এই সব অত্যাচারী জমিদার আর পুলিশরাজের বিরুদ্ধেও।

Leave a Comment