আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ সৈয়দ শামসুল হকের ইতিহাস নির্ভর কাব্যনাটক । যা সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্যের অন্তর্গত।

সৈয়দ শামসুল হকের ইতিহাস নির্ভর কাব্যনাটক
সৈয়দ শামসুল হক বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়।
সৈয়দ শামসুল হক নাট্যকার হিসেবে সফলতা পেয়েছেন। বিবিসি বাংলায় নাটকে কাজ করার মাধ্যমে তিনি নাট্যকার হিসেবে পরিচিতি পান। তার পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্য নাটক। তার পরের নাটক নুরুলদীনের সারাজীবন ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত। সৈয়দ হক তার রচনায় সমসাময়িক বাংলাদেশ এবং মধ্যবিত্ত সমাজের আবেগ-অনুভূতি ও ভালো-মন্দ দিকগুলো তুলে ধরেন। তার অন্যান্য নাটক নারীগণ, যুদ্ধ এবং যোদ্ধা, ঈর্ষা, এখানে এখন-এ সমকালীন বাস্তবতা ফুটে ওঠেছে।

একজন ইতিহাস-মনস্ক লেখক হিসেবে সৈয়দ শামসুল হকের প্রতিটি কাব্যনাটকে বাঙালি জাতিসত্তার আর্থ- সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সন্নিবেশিত হয়েছে। কোনো কোনো কাব্যনাটকে ইতিহাসকে প্রেক্ষাপটে রেখে তিনি বাংলার সাধারণ জনগণের যাপিত জীবনের চিত্র, আর্থ-সামাজিক সংকট, মানস-দ্বন্দ্ব, শ্রেণি-বৈষম্যের স্বরূপ উপস্থাপন করেছেন।
আবার কোনো কোনো কাব্যনাটকে সমাজ ও রাজনীতি প্রধান উপজীব্য হলেও সেখানে ইতিহাসের ঘটনাংশ কার্যকারণসূত্রে উপস্থাপিত হয়েছে। ইতিহাসকে প্রধান অবলম্বন করে তিনি মূলত তিনটি কাব্যনাটক রচনা করেছেন। এগুলি হলো পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নূরলদীনের সারাজীবন এবং নারীগণ।

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকটিতে লেখকের অন্বিষ্ট ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রেক্ষাপটে রেখে গ্রাম বাংলার সাধারণ জনগণের মানস-সংকট উপস্থাপন। নূরলদীনের সারাজীবনে তিনি অবলম্বন করেছেন কৃষকবিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
অপরদিকে নারীগণ নাটকটিতে তিনি পলাশির ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে রাজমহলের নারীদের জীবনাচার, রাজনৈতিক সংকট ও মানসিক ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়ার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন।

নিম্নে এ নাটকগুলি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- নূরলদীনের সারাজীবন
- নারীগণ কাব্যনাটক