আজকে আমরা সমরেশ বসুর মিথ অবলম্বী উপন্যাসের বিষয় স্বাতন্ত্র্য ও শিল্পরূপের সূচিপত্র আলোচনা করবো।

সমরেশ বসুর মিথ অবলম্বী উপন্যাসের বিষয় স্বাতন্ত্র্য ও শিল্পরূপের সূচিপত্র
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ভীষ্মদেব চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে ‘সমরেশ বসুর মিথ-অবলম্বী উপন্যাসের বিষয়স্বাতন্ত্র্য ও শিল্পরূপ’ শীর্ষক বর্তমান অভিসন্দর্ভ প্রণীত হয়েছে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এম এ ডিগ্রি লাভের পর আমি ২০০৪-এর ১৪ই মার্চ (শিক্ষাবর্ষ: ২০০১-২০০২) এম ফিল শিক্ষাক্রমে যোগদান করি। গবেষণা-তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশনা, বিশ্লেষণধর্মী বিবেচনা, উপদেশনা ও আন্তরিক সহযোগিতার ফলে, বিলম্বে হলেও, অভিসন্দর্ভ রচনা সমাপ্ত করে মূল্যায়নের জন্য উপস্থাপন করা সম্ভব হল।
অভিসন্দর্ভের বিষয় নির্ধারণসহ গবেষণাকর্মের বিভিন্ন পর্যায়ে আমার প্রেরণার উৎস ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর সৈয়দ আকরম হোসেন। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডক্টর বেগম আকতার কামাল, অধ্যাপক ডক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ, অধ্যাপক ডক্টর রফিকউল্লাহ খান ও ডক্টর সিরাজুল ইসলাম- এর কথা। অভিসন্দর্ভ প্রণয়নে উল্লিখিত শিক্ষকবৃন্দের সৃষ্টিশীল পরামর্শ ও উৎসাহ দানের জন্য আমি তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকা সংগ্রহে আমি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগার, বাংলা বিভাগের মুহম্মদ আবদুল হাই স্মৃতি-পাঠকক্ষ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সেমিনার ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ গ্রন্থাগার ব্যবহার করেছি। সহযোগিতার জন্য গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দকে জানাই সবিশেষ ধন্যবাদ।
বন্ধুপ্রতিম নুজহাত তাজিন আহমেদ ও জাকিয়া সুলতানা সানন্দে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার সঙ্গে সাহিত্যে মিথ ব্যবহার প্রসঙ্গে আলোচনা করে আমাকে উদ্বুদ্ধ ও উপকার করেছেন। দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও পত্রিকা সংগ্রহে কষ্টসাধ্য শ্রম মেনে নিয়েছিলেন সুহৃদ মোহাম্মদ ফজলে আকবর। তাঁদের কাছে আমি ঋণী ।
সংসারের দুরূহ প্রতিবন্ধকতাকে তুচ্ছ করে প্রসন্নচিত্তে আমাকে অভিসন্দর্ভ রচনায় নিরন্তর উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন আমার মা। বড়োবোনের স্নেহাশিসও ছিল আমার গবেষণাকর্মের উৎস।

সূচিপত্র
প্রথম অধ্যায়
সমরেশ বসুর মিথ-অবলম্বী উপন্যাসের পরিপ্রেক্ষিত
দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ সমরেশ বসুর মিথ-অবলম্বী উপন্যাসের বিষয়স্বাতন্ত্র্য ও শিল্পরূপ
প্রথম পরিচ্ছেদ : সমরেশ বসুর শান্ত
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : যুদ্ধের শেষ সেনাপতি
তৃতীয় পরিচ্ছেদ : সমরেশ বসুর প্রাচেস
চতুর্থ পরিচ্ছেদ সমরেশ বসুর পৃথা
পঞ্চম পরিচ্ছেদ : অন্তিম প্রণয়
উপসংহার
কালিক পরিক্রমায় পরিবর্তিত ব্যক্তিচৈতন্য ও যুগমানসের শিল্প প্রতিমান সমরেশ বসুর উপন্যাস। বোহেমিয়ান জীবনচর্চা, অন্ত্যজ মানুষের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক প্রতিবেশ ও রাজনৈতিক জীবনের জটিলতর সংকটে তাঁর শিল্পলোক হয়েছে বৈচিত্র্যময়।
জীবনের সমগ্রতাসন্ধানী ঔপন্যাসিক হিসেবে দুঃখ ও গ্লানির মধ্য দিয়ে আত্মআবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে অপরের জীবন্মুক্তির সম্ভাবনাও প্রমূর্ত হয়েছে সমরেশ বসুর মিথ অবলম্বী উপন্যাসসমূহে। অভিশপ্ত জীবনকে অতিক্রম করতে হলে ব্যক্তিকেই সংগ্রামীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়— ব্যক্তিমানুষের এ চিরায়ত উপলব্ধি তাঁর মিথকেন্দ্রিক উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সত্য।
শৈশবে আটপৌরে কথনে মায়ের মুখে শোনা ব্রতকথার কাহিনি অদেখা জগৎ সম্পর্কে সমরেশ বসুর কল্পনাপ্রতিভাকে বাড়িয়ে তোলে। এরপর কুম্ভমেলা দর্শনকালে সারা ভারতের মানুষের সম্মিলন দৃশ্য সমরেশমানসে ভারতবর্ষের গৌরবময় যে অতীতকাহিনি উন্মোচন করে তার সঙ্গে বর্তমানের বিরোধে তার সতর্ক ও সংবেদনশীল শিল্পীচেতনা আত্মজিজ্ঞাসু হয়ে ওঠে।
এ ঘটনাধারার মধ্যেই নিহিত রয়েছে সমরেশ বসুর মিথ অবলম্বী উপন্যাস রচনার তাৎপর্য। কালধর্ম ও যুগধর্মের সংকট উত্তরণ-আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে এ ধরনের উপন্যাস রচনায় প্রাণিত করে। এজন্য মিথ-অবলম্বী উপন্যাসকে বলা যেতে পারে তাঁর বৃহৎ সাহিত্যসৃষ্টির সংক্ষিপ্ত রূপায়ণ।
সমরেশ বসুর ঔপন্যাসিক শিল্প-প্রবণতার মৌলসূত্র এখানে প্রতিবিম্বিত। উত্তরঙ্গ-সওদাগর উপন্যাসে চিত্রিত ব্যক্তির সংগ্রামী জীবনচেতনা, বিবর-প্রজাপতি পাতক-স্বীকারোক্তি পর্বের অস্তিত্বশঙ্কিত মধ্যবিত্তের আত্মরতির সীমায় নিঃশেষিত হতাশাগ্রস্ত জীবনানুভব, প্রথম লেখা উপন্যাস নয়নপুরের মাটি ও সর্বশেষ প্রকাশিত অসমাপ্ত উপন্যাস দেখি নাই ফিরে-র সম্ভাবনাময় শিল্পীর অস্তিত্ব- প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত—এ ত্রিবিধ প্রবণতাকে মিথীয় বৃত্তে ধারণ করেছেন সমরেশ বসু।
কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস, হেগেলের দার্শনিক তত্ত্বকে ভিত্তি করে নিরাসক্ত বিজ্ঞাননিষ্ঠ সৃজনশীলতায় সমরেশ বসু মিথের মধ্যে ইতিবৃত্তীয় সত্য সন্ধানের পাশাপাশি রামায়ণ- মহাভারতনির্ভর ধ্রুপদী মিথের উপেক্ষিত, স্বল্প আলোচিত চরিত্রের চেতনালোকে আধুনিক, মনোময় ও আত্মবীক্ষাপ্রবণ মানুষের স্বরূপ আবিষ্কার করেছেন।

শুধু তাই নয়, যুগ যুগ ধরে পূজিত, সর্বজনমান্য চরিত্রকে যুক্তির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি তাঁদের চরিত্রে আরোপিত দেবত্ব অস্বাকার করে তাদেরকে প্রেম, দ্রোহ, ক্ষোভ, প্রতিবাদ, স্বপ্নময়তা, অধকারবোধ, অসূয়াবৃত্তিসম্পন্ন তথা মানবীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মানুষ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেন শেষ পর্যন্ত।
মিথীয় জগতের অংশী হয়ে নয়, এ মানুষ মর্ত্যলোকের প্রচ্ছায়ায় সৃষ্ট বলেই রূপজ মোহে আবিষ্ট হয়ে অভিশপ্ত জীবনের দায়ভার বহন করেও আত্মবিশ্বাস ও প্রবল জীবনতৃষ্ণায় অভিশাপমুক্তির পথে এগিয়ে যান, উত্তীর্ণ হন বৃহত্তর মানবিকবোধে। কখনো আত্মশক্তির উদ্বোধনে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রকদের অন্যায়ের প্রতিবাদ অন্যায়ের মাধ্যমে করলেও পরিণামে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বহির্দ্বন্দ্বাশ্রয়ী আত্মখনন ও আত্মক্ষরণে বিপর্যস্ত ব্যক্তিসত্তা কল্যাণময় মানবসত্তায় পুনর্জাত হয়।
একনায়কতান্ত্রিক শাসনশৃঙ্খলিত সমাজব্যবস্থায় শাসক ও শোষিতের শ্রেণিগত বৈষম্যে ব্যক্তির অসহায়তার স্বরূপ, পেশিশক্তি দ্বারা হত্যা, লুণ্ঠন প্রক্রিয়ায় দারিদ্র্যক্লিষ্ট জীবনকে অতিক্রমণ, স্বঅধিকার প্রতিষ্ঠার রূপকল্প ও দুঃখময় জীবনপ্রবাহের অন্তিমে ব্যক্তির সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠার স্বপ্নময় জগৎ বাস্তবিক হয়ে উঠেছে মিথের আশ্রয়ে। মিথীয় আবহে সমাজগতির বিসর্পিলতায় পুরুষের সীমাবদ্ধতা ও শৃঙ্খলিত নারীর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণও করেছেন তিনি।
মিথিক বিষয় প্রকাশসূত্রেই সমরেশ বসু অনিবার্য শিল্পরূপ বা রূপনির্মিতি কৌশল সন্ধান করেছেন। কালকূট ও সমরেশের দ্বৈত শিল্পীসত্তার সমন্বয়ে সৃষ্ট অদ্বৈত চেতনালোকে বিন্যস্ত হয়েছে তাঁর উপন্যাসের উপকরণ-উৎস। ভ্রমণপ্রিয় কালকূট সত্তা সর্বত্র বিচরণশীল।
মিথ অবলম্বী উপন্যাসেও কালিক ও স্থানিক পটভূমিতে কালকূটের পথিক-সত্তা স্বয়ং দ্রষ্টার রূপে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ঘটনা ও চরিত্রকে অলৌকিক ও অতিরঞ্জিত আবরণমুক্ত করে সেখানে আধুনিক মানুষের জীবনমুক্তির অভীপ্সা বাণীরূপ দিয়েছে। এজন্য উনিশ শতকের আদর্শায়িত ও বহুদৃষ্ট চরিত্রায়ণের পরিবর্তে ‘হয়ে ওঠা’ চরিত্রই হয়েছে সমরেশ বসুর অন্বিষ্ট।
মিথীয় ঘটনাক্রমের সঙ্গে সমকালীন যুগধর্মকে মিলিয়ে দেবার মানসে প্রতিটি উপন্যাসে প্রতিপাদ্য ও প্রমাণের যোগ রক্ষার জন্য ঔপন্যাসিক মূল ঘটনাংশের পূর্বে একটি নান্দীমুখ রচনা করেছেন। এ নান্দীমুখ ইতিবৃত্তীয় নানা ঘটনা, স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান ও চরিত্রের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কার্য- র্য-কারণসূত্র আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে গতিময় সামাজিক বিবর্তনধারায় উপন্যাসে চিত্রিত ঔপন্যাসিকের জীবনবেদ প্রকাশক চরিত্রের বিকাশ ও পরিণতি অনুধাবনে সহায়ক হয়েছে।
চরিত্রপ্রধান উপন্যাস হওয়ায় সমরেশ বসুর মিথ অবলম্বী উপন্যাসসমূহের গঠনকৌশল সরলরৈখিক নয়, তা উল্লম্ফনধর্মী। কাহিনীগ্রন্থনে সময়বিন্যাসের মাত্রা বহুস্তরীভূত। সঙ্গত কারণেই আঙ্গিক সচেতন ঔপন্যাসিক নিজস্ব দৃষ্টিকোণের সঙ্গে কখনো কখনো চরিত্রের দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করেছেন। এজন্য প্রথাগত বর্ণনা ও চিত্রের পরিবর্তে তাঁর উপন্যাসে এসেছে নাটকীয় মনোকথন, বিশ্লেষণধর্মী, চলচ্চিত্রাত্মক ও প্রতীকধর্মী পরিচর্যা। ভাষারীতি কোথাও আটপৌরে স্বভাবোক্তিনির্ভর, আবার কোথাও তৎসমশব্দবহুল ও অলংকার প্রচ্ছাদিত হয়েও গীতময়, চিত্রকল্প আশ্রয়ী ও অন্তর্ময়তায় পূর্ণ।
বাংলা উপন্যাসের ধারায় সমরেশ বসুর পূর্বকালীন বেশ কিছু ঔপন্যাসিকের রচনায় যেমন মিথের প্রয়োগ লক্ষণীয়, তেমনি তাঁর সমকালীন ঔপন্যাসিকের কেউ কেউ আধুনিক জীবন সংকট ও জীবন জিজ্ঞাসার রূপকল্প সৃষ্টির শিল্প উৎস হিসেবে মিথকে গ্রহণ করলেও, সমরেশ বসুর অভিনবত্ব ও স্বাতন্ত্র্য এখানেই যে তিনি প্রত্যক্ষভাবে মিথিক চরিত্রকে শুধু উপন্যাসের বিষয় করেননি, বরং তাদের অন্তর্নিহিত স্বতন্ত্র সত্তার সঙ্গে আধুনিক কালের মানবসত্তার সাযুজ্য আবিষ্কার করেছেন।
ফলত ঐতিহাসিক, সমাজতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, মনোবিজ্ঞানী ও অনুসন্ধিৎসু গবেষকের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ শক্তির সঙ্গে সমরেশ বসুর ঔপন্যাসিক প্রতিভার অপূর্ব মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর মিথ অবলম্বী উপন্যাসের জগৎ।

দেশকালের অভিঘাতে দুঃখময়তার জটিলতা বিন্যাসে ব্যক্তির সমষ্টিচৈতন্য উত্তরণের সর্বজয়ী মানসিক অভিজ্ঞান ও কর্মপ্রেরণা [ শাস্ত্রী; বলদৃপ্ত পৌরুষ দ্বারা নয়, অন্যায়ের মধ্যদিয়েই অন্যায়ভাবে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করার জন্য কৃত নির্মম রক্তপাত ও পরিণতিতে অনুতাপদগ্ধ হৃদয়ে মানবতার উদ্বোধন [যুদ্ধের শেষ সেনাপতি; দস্যুসত্তা অতিক্রমী মানবহৃদয়ে প্রেমময় কবিসত্তার অভিষেক | প্রাচেতস); পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর শৃঙ্খলিত—নিরস্তিত্ব মাতৃত্ব ও বিপর্যন্ত ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যের মধ্যে তার মহিমান্বিত ও প্রেমময় রূপের উদ্ভাসন [পৃথা]; নিয়তিনির্ধারিত নির্বিকল্প নৈরাশ্যে সঞ্চরমান বন্ধ্যাসভ্যতা থেকে মুক্তিকামী প্রাণের যৌনজীবনের বৃত্তে অসহায় আত্মসমর্পণের অস্তিম আকাঙ্ক্ষা ও তা থেকে অনির্বচনীয় আনন্দপ্রাপ্তি [ অন্তিমপ্রণয় | আশ্চর্য শিল্পসিদ্ধি অর্জন করেছে সমরেশ বসুর মিথ-অবলম্বী উপন্যাসে।
প্রকৃত অর্থে একালের মানুষের দ্বন্দ্বময়তা ও দ্বন্দ্বমুক্তির স্বরূপই তাঁকে মিথমুখী করেছে। বাংলা উপন্যাসে সমরেশ বসুর মিথ অবলম্বী উপন্যাসসমূহ ঔপন্যাসিকের বাভিক্রমী, নিঃসঙ্গ ও একক নান্দনিকবোধ উৎসারিত সমকালিক জীবনসত্যের চিরায়ত শিল্পব্যঞ্জনার প্রকাশ।