আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাটি ঘেঁষা মানুষ উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাটি ঘেঁষা মানুষ উপন্যাস
‘মাটি ঘেঁষা মানুষ’ উপন্যাসটি অসম্পূর্ণ উপন্যাস। উপন্যাসটি চাষী পরিবারের একটি মেয়ে রেবর্তীকে কেন্দ্র করে লেখা। রেবর্তীর বাবার বাড়ি এবং মামার বাড়ি এর পটভূমি। এর সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বস্তি জীবন, কারখানার অবস্থা, মানুষের কুসংস্কার, গ্রামের সাধারণ মানুষের মানসিকতা। উপন্যাসটি দুভাগে বিভক্ত। এক ভাগে ‘একটি চাষীর মেয়ে’ অন্যভাগে ‘কুলির বউ।
উপন্যাসের শুরুতে চাষীর ছেলে কারখানার মঞ্জুর গোবিন্দ ভোরে রেবর্তীদের বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে কারখানায় যাওয়ার সময় সাপের লেজ মারিয়ে দিলে সাপ তাকে কামড় দেয়। চিৎকার শুনে রেবর্তী খালের পাড় থেকে দৌড়ে আসে। গোবিন্দ রেবতীর নতুন কাপড়ের পাড় ছিঁড়ে পা বাঁধে। অনেক লোকজন আসে, রেবতীর বাবা এবং দাদাও আসে। দাদা কুঞ্জ রেবর্তীকে বাড়ির ভেতর যেতে বলে। কিন্তু সে কথা উপেক্ষা করে রেবর্তী মুখ দিয়ে চুষে বিষ রেব করে।

এরপর গোবিন্দকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অর্জুন ডাক্তারের কাছে থেকে ওষুধ এনে দেয় রেবর্তীকে। রেবর্তী ভালো হয়। খবরের কাগজে রেবর্তীর নাম ওঠে, তাকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। এতে সম্ভ্রান্ত প্রসন্নের নজরে পরে রেবর্তী। তাই প্রসন্নের কাছে থেকে বাঁচানোর জন্য রেবর্তীকে মামার বাড়ি পাঠানো হয়।
মামী গিরির সঙ্গে রেবতীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একদিন গোবিন্দ গিয়ে রেবর্তীকে প্রেম নিবেদন করে। রেবতী রাজি হয়। এ সময় মামার বাড়ির দেশে প্রবল বন্যা শুরু হয়। বন্যার খবর নিতে চাল, তরকারি, মাছের মাথা নিয়ে গোবিন্দ যায় রেবতীর মামার বাড়ি। গিরি সেই দিনই তাদের বিয়ে ঠিক করে। তিনদিন পর বিয়ের লগ্ন। গোবিন্দ রেবতীর বাড়িতে বিয়ের খবর জানাতে চলে যায়, কিন্তু আর ফিরে আসে না।
কয়েকদিন পর খবর আসে কারখানার হাঙ্গামায় গোবিন্দ জেলে গেছে, আরো পরে জানা যায় গোবিন্দ আহত হয়ে হাসপাতালে। রেবর্তী আর গিরি তাকে হাসপাতালে গিয়ে দেখে আসে। গোবিন্দ ছাড়া পেলে আবার তাদের বিয়ের কথা ওঠে। কিন্তু দেশে শুরু হয়েছে দুর্ভিক্ষ।

এসময় গোবিন্দ বিয়ে করে রেবতীকে কষ্ট দিতে চায় না। রেবতীর ভাই অন্য ছেলের সঙ্গে রেবতীর বিয়ে ঠিক করে তাকে আনতে যায়। রেবর্তী তখন বাড়ি থেকে পালায়। এরপর ‘কুলির বউ’ পর্ব। রেবর্তী আর গোবিন্দের বিয়ে হয়েছে।
গোবিন্দ রেবতীকে নিয়ে শহরের বস্তি তে ওঠে। রেবর্তী বস্তির মেয়েদের সঙ্গে ভাব জমাতে শুরু করে। এখানে উপন্যাস অসম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। লেখক হয়তো দেখাতে চেয়েছেন এক গোষ্ঠীর মেয়ে কীভাবে অন্য গোষ্ঠীতে নিজেকে অস্তিত্ববান করে তোলে ।