আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিলতা উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিলতা উপন্যাস
শান্তিলতা নামের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত মেয়েকে কেন্দ্র করে ‘শান্তিলতা’ ( ১৯৬০ ) উপন্যাসটি লেখা। শান্তিলতার রং কালো, ‘গড়ন-পিটন আশ্চর্যরকম’। তার বাবা চন্দ্রনাথ হঠাৎ উড়নচণ্ডী হয়। তারা বস্তিতে থাকে। এক রাতে চন্দ্রনাথ তার ছেলেবেলার বন্ধুর ছেলে সুখেন্দুকে নিয়ে বাড়ি ফেরে। সুখেন্দুকে দেখে শান্তিলতা ভয় পায়।
সুখেদুের সাইকেল মেরামতের কারখানা আছে। চন্দ্রনাথকে সে কারখানায় চাকরি দিতে চায়। সে রাতে সুখেন্দু শান্তিলতাদের ঘরে থাকে। চন্দ্রনাথ ঘুমালে সুখেন্দু শান্তিলতার পায়ের কাছে যায়। শান্তিলতা লাথি দিয়ে সুখেন্দুকে দুরে ফেলে দেয়। পরদিন সুখেন্দুর সঙ্গে মদ খায় চন্দ্রনাথ। কয়েকজন লোক চন্দ্রনাথকে সন্ধ্যায় বাড়ি দিয়ে যায়। তাদের বস্তিতে থাকে শিক্ষিত বিমল।

শান্তিলতা বিমলের কাছ থেকে বই এনে পড়ে। রাত এগারটায় বিমল বাড়ি ফিরলে শান্তিলতা তার কাছে একটা চাকরি চায়। বিমলের চেষ্টায় শান্তিলতা স্কুল চাকরি পায়। স্কুলের কাছে হেডমিস্ট্রেসের বাড়ির এক তলার একটি ঘরে শান্তিলতারা গিয়ে ভাড়া নেয়। হার্ড এটাকে চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। ঘটনা পরম্পরায় শান্তিলতা আর সুখেন্দুর বিয়ে হয়। বিয়ের আগে শর্ত হিসেবে শান্তিলতা তার চাকরি ছাড়ে, আর সুখেন্দু ছাড়ে মদ খাওয়া আর মানুষ ঠকানো ব্যবসা।
বড় কারখানায় সুখেন্দু চাকরি নেয়। এদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শান্তিলতা মিছিলে যায়। সুখেন্দু তাকে মারধোর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। গুণ্ডাদের কথা শোনে না বলে সুখেন্দুকে মেরে তারা বাড়িতে দিয়ে যায়। সুখেন্দুর কথায় শান্তিলতা দাঁত দিয়ে বাধন মুক্ত হয়। এভাবে সুখেন্দু আর শান্তিলতার মিলন হয়।
একদিন শান্তিলতা সখ করে ফুলসজ্জার নীলাম্বরখানা পরে, চুল বেঁধে খোঁপায় বেলকুল লাগায়, সিঁথিতে মোটা করে সিঁদুর দেয়, কপালে বড় কুমকুমের টিপ দেয়। সেই দিন কারখানায় মারামারি হয়। মহাদেব এসে বলে:
“ বেআইনি হুকুম জারি করে বসে বড়োসাহেব। প্রতিবাদে সবাই কাজ বন্ধ করে যে যার জায়গায় বসে। খেপে গিয়ে বড়ো সাহেব বাবুরাজার দলকে এনে কারখানার মধ্যে ঢোকায়। মজুররা রুখে দাঁড়ায়। সুখেন্দুই ছিল সকলের সামনে। বাবুরাজার লাঠিতে তার মাথায় খুব জোর চোট লেগেছে। ….. …] এখনও জ্ঞান ফিরে আসেনি।”(১০খ,পৃ-৬১৭)

শান্তিলতা বলে
“আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো।” (১০খ, পৃ-৬১৭)
এ কথা সত্য যে
“এই উপন্যাসেও শ্রমিকদের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাদের অকৃত্রিমতার প্রতি আস্থা এবং নিষ্ঠা সুন্দর প্রকাশলাভ করেছে। ২৫
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের কষাঘাতে একটি মেয়ের সাবলম্বিতাকে রুদ্ধ করে নারী সমাজের অসহায়তা তুলে ধরেছেন এবং কারখানার শ্রমিক সমাজের প্রতি মালিকের নিষ্ঠুর আচরণ দেখিয়েছেন। তিনি আরো দেখিয়েছেন মালিকের কাছে নির্যাতিত শ্রমিক এবং সেই শ্রমিকের কাছে আরো নির্যাতিত সংসারের নারীরা।