আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহরতলী ২য় খন্ড উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহরতলী ২য় খন্ড উপন্যাস
শহরতলী (১৯৪২) উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ডে লেখক প্রথমেই দেখিয়েছেন শহরতলীর পরিবর্তন। দালান উঠছে, মানুষ ভদ্র হওয়ার মুখোশ পরছে, জমির দাম বাড়ছে, পুরোনো লোক বেশি দামে জমি বিক্রি করে চলে গেছে। এ অবস্থায় যশোদার বাড়ি দুটি রয়েছে, আছে যশোদার সই কুমুদিনীর বাড়িসহ আর কয়েকটি বাড়ি। যশোদার কারণে এরা বাড়ি বিক্রি করতে পারছে না।
যশোদাকে অনেক বুঝিয়েও কিছু হয়নি। সত্যপ্রিয় বাড়ি বেনামে কিনে নিচেচ্ছ, যশোদা সত্যপ্রিয়র কাছে বাড়ি বিক্রি করবে না। এ দিকে নন্দ সত্যবাবুর মিলের জ্যোতিবাবুর বোন সুবর্ণকে বিয়ে করে পালিয়েছে। যশোদার বাড়ি রয়েছে শুধু পঙ্গু ধনঞ্জয়। যশোদা হোটেল করার কথা চিন্তা করে দুদিন হোটেলে কাটিয়ে এসে সে চিন্তা বাতিল করে দেয়।

আবার অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য ঘরের জিনিসপত্র পাঠিয়ে দিয়ে উনন ভাঙতে গিয়ে পা কেটে ফেলে তারপর আর যায় না। ছোট উনন বানায়। এরপর কুমুদিনী ছাড়া সকলে বাড়ি বিক্রি করে দেয়। এই অবস্থায় কুমুদিনীর স্বামী রাজেন যশোনার বাড়িতে ভাড়াটে এনে দেয়। নতুন দম্পতি অজিত আর সুব্রতা। যশোদা আবার চারজনের রান্না শুরু করে। সুব্রতা খুব মিশুক মেয়ে।
অল্পদিনের মধ্যেই পাড়ার বিভিন্ন বয়সী মেয়ে মহিলারা যশোদার বাড়ি আড্ডা দিতে আসতে শুরু করে। যশোদা এখানে গান শেখার ব্যবস্থা করে। গানে খেলায় গল্পে যশোদার বাড়ি জমজমাট হয়ে ওঠে। একদিন রাজেন শ্রমিক নেতা বিধুবাবুকে যশোদার বাড়ি নিয়ে আসে।
আবার শ্রমিকদের সাথে যশোদার যোগাযোগ হয়। শ্রমিকদের সভায় যশোদা বক্তৃতা দেয়। কিন্তু যশোদা দেখে এরা সারা দেশের শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য লড়ছে। সরল-সহজ যশোদা এতো কিছু বোঝে না। অন্যদিকে সত্যপ্রিয়র গর্ভবতী মেয়ে যোগমায়া আর জামাই যামিনী সত্যপ্রিয়র উপর রাগ করে যশোদার বাড়ি ভাড়া নেয়। যশোদাও সত্যপ্রিয়র ওপর প্রতিশোধ নিতে বাড়ি ভাড়া দেয়। কিন্তু দিয়েই বুঝতে পারে আবার সত্যপ্রিয়র সাথে কলহ শুরু হয়ে গেল। বাড়ির সবাই সিনেমা দেখতে যায়।

সেখানে যশোদা কুমুদিনী সবাই সিনেমায় নদ আর সুবর্ণকে দেখতে পায়। ওরা দুজন অভিনয় করছে। যশোদার মন দুর্বল হয়ে ওঠে। সে সত্যপ্রিয়কে অনুরোধ করে যে মেয়ে জামাইকে ফিরিয়ে নিতে। সত্যপ্রিয়র চাহনিতে হঠাৎই যশোদা প্রেমিকের চাহনি দেখতে পায়। বাড়ি ফিরে আসে। কয়েকদিন পরই যশোদার কাছে উকিল নোটিশ আসে বাড়ি বিক্রির। বাড়ি উপর দিয়ে রাস্তা হবে। সকলে বুঝতে পারে এ সত্যপ্রিয়রই কাজ। যোগমায়ারা বাড়ি ফিরে যায়।
অজিত নতুন বাড়ি ভারা নিতে চাইলে সুব্রত বলে তারা যশোদার সঙ্গেই যাবে। যশোদা ভাবে যেখানেই যাক উনুনগুলো তার আবার ভাঙতে হবে। এভাবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়েছেন ধনীক এবং শ্রমিক শ্রেণির চিরশত্রুতা কীভাবে পরিবেশ পরিস্থিতিকে পাল্টে দেয়। নিরপরাধ মানুষকে অবিশ্বাসী করে দিয়ে নিঃসঙ্গ একা করে দেয়।