আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহরতলী ১ম খন্ড উপন্যাস । যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহরতলী ১ম খন্ড উপন্যাস
রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জীবনকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করে তা নিয়ে লেখা শহরতলী (১৯৪০, ১ম খণ্ড) উপন্যাস। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ উপন্যাসে সমাজের শ্রেণিবৈষম্য এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণির শঠতা দেখিয়েছেন। শহরতলীর কারখানাকে ঘিরে কিছু মানুষের জীবনযাপন শহরতলী উপন্যাসের বিষয়বস্তু।
যশোদা শ্রমিকদের বাড়ি ভাড়া দেয়, সবাইকে একা রান্না করে খাওয়ায় । তার স্বাস্থ্য ভালো, লম্বা, সাহসী, চেহারায় এবং কাজে মেয়েলিভার নেই কিন্তু তার একমা ছোট ভাই নন্দ তার সম্পূর্ণ বিপরীত। নন্দ পালায় কীর্তন গায়, কীর্তন গেয়ে এসে দুই তিন দিন। নিষ্প্রাণ হয়ে থাকে।
শ্রমিকরা যশোদাকে বিশেষ মান্য করে, প্রয়োজনে তার কাছে পরামর্শ নেয়। যাদের চাকরি নেই তাদের যশোদা বিনা পয়সায় রাখে, খাওয়ায়, চাকরির জোগার করে দেয়। শ্রমিকদের সুখ-দুঃখ যশোদার সাথে একাকার হয়ে আছে। শ্রমিকরা যশোদার পরামর্শে দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘট করে। মিলের মালিক সত্যপ্রিয় বুঝতে পারে যে অবস্থা কৌশলে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

সে কীর্তন শোনার নাম করে নন্দকে চাকরি দেয়, দাবি মেনে নেবে বলে যশোদাকে দিয়ে ধর্মঘট উঠিয়ে নেয়। তারপর শ্রমিক নেতাদের বরখাস্ত করে সত্যপ্রিয়। কিন্তু মিলে কোনো গোলমাল হয় না। সত্যপ্রিয় নানা ছুতোয় যশোদাকে গাড়ি করে বাড়ি নিয়ে যায়। এভাবে আস্তে আস্তে যশোদাকে শ্রমিকদের কাছে শত্রু করে তোলে সত্যপ্রিয়। শ্রমিকরা যশোদাকে অবিশ্বাস করতে থাকে।
যশোদা নন্দকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলে, কিন্তু নন্দ ছাড়ে না। কারখানার ম্যানেজার শ্রমিকদের বুঝিয়ে দেয় যশোদা উপরওয়ালাদের সাথে ভিড়েছে তাই নন্দের চাকরি হয়েছে। আর এ কারণেই ধর্মঘট উঠিয়ে নেয় তিনবার। এবং যশোদারই পরামর্শে ধর্মঘটের আটজন পাণ্ডার চাকরি গেছে। সকলে এ কথা বিশ্বাস করে। যশোদা একটু দেরিতে হলেও ব্যাপারটা বুঝতে পারে।

ভেতরের আসল কথাটা বোঝানোর জন্য যশোদা সকলকে ডাকে, কিন্তু কেউ তার ডাকে আসে না। তারপর নন্দকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়, তবু সকলে তাকে এড়িয়ে চলে । যশোদার দুটি বাড়িতে থাকে মাত্র চারজন। আগে তার বাড়িতে তিনটি বড় বড় উনুন জ্বলতো। এখন একটিরও দরকার নেই। ছোট একটি উনুন করার উৎসাহ বা শক্তিও নেই যশোদার। তার মনের মধ্যে আগুন জ্বলে।
এভাবে সহজ-সরল যশোদাকে বেকায়দায় ফেলে শ্রমিকদের কাছে অবিশ্বাসী করে তোলে তীক্ষ্ণবুদ্ধির সত্যপ্রিয়। লেখক এ উপন্যাসে সত্যপ্রিয়র মাধ্যমে দেখিয়েছেন রাজনৈতিক চালে উপর তলার মানুষরা কীভাবে চিরদিন নিচের তলার মানুষকে দাবিয়ে রেখেছে।