আজকে আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ সূচীপত্র
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ সূচীপত্র
সময়কে ধারণ করে নিজেকে প্রকাশ করার আকাঙ্ক্ষা থেকে সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। বাংলা সাহিত্যের আঙ্গিনায় তাঁর আবির্ভাবের ফলে উন্মোচিত হয়েছে একটি নতুন দিক। সমাজ-অর্থনীতি- রাজনীতি সংলগ্ন বাঙালি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত জীবনকে তিনি আবেগহীনভাবে এবং সর্বদর্শীর দৃষ্টিতে তুলে এনেছেন তাঁর রচিত সাহিত্যে, বিশেষত উপন্যাসে। একদিকে যেমন ফ্রয়েডীয়তত্ত্ব, অন্যদিকে তেমনি মার্ক্সবাদ তাঁর ব্যক্তি-মানস গঠনে কার্যকর ছিল।
মানিক বন্দ্যো পাধ্যায়ের রচিত উপন্যাসগুলোতে এই তত্ত্বসমূহের প্রভাব রয়েছে। ২০০৩ সালে আমি এম.ফিল. বিষয়ক গবেষণার জন্য “মানিক বন্দ্যো পাধ্যায়ের উপন্যাস (১৯৩৫-১৯৪৪) : জীবন ও সমাজ” শীর্ষক বিষয় নির্বাচন করি। গবেষণার পরিধি হিসেবে মানিক বন্দ্যো পাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস (‘জননী’, ১৯৩৫) থেকে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে তাঁর যোগদানের (১৯৪৪) পূর্ব পর্যন্ত প্রকাশিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে মানুষের ব্যক্তিজীবন ও সমাজকাঠামো নিরীক্ষাকে বিবেচনায় নিয়েছিলাম।
কিন্তু বাংলা বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ফিল. বিষয়ক উচ্চতর কমিটি আমার উপস্থাপিত উল্লিখিত শিরোনাম ও তৎসঙ্গে উপস্থাপিত সার-সংক্ষেপ (synopsis) পর্যালোচনা করে “মানিক বন্দ্যো পাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ” (জননী’, ‘জীবনের জটিলতা’, ‘শহরতলী’-১ম ও ২য় খণ্ড, ‘অহিংসা’, ‘চতুষ্কোণ’) শীর্ষক শিরোনামে আমাকে এম. ফিল. গবেষণা করবার অনুমতি প্রদান করে।
তাঁদের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে সে অনুসারে আমাকে নতুন সার-সংক্ষেপ (synopsis) উপস্থাপন করতে হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কমিটি কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়ে আমি বর্তমান শিরোনামে এম.ফিল. গবেষণায় মনোনিবেশ করি।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘কল্লোল’ (১৩৩০) পত্রিকা একটি নতুন সাহিত্যধারা সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তিরিশের আধুনিকতার পথিকৃৎদের অনেকেই এই পত্রিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংযুক্ত ছিলেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, দীনেশরঞ্জন দাশ, গোকুলচন্দ্র নাগ, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ এঁদের অন্যতম।
১৯২৮ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘কল্লোল’ কে অতিক্রম করে ‘বিচিত্রা’র গল্প প্রকাশের মাধ্যমে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সাহিত্য সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর পদচারণা। উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, কবিতা, ডায়েরি লেখন ইত্যাদি বিভিন্ন সাহিত্যমাধ্যমে তাঁর দৃঢ় অবস্থান। তাঁর লেখায় উচ্চ ও মধ্যবিত্তের অন্তসার শূন্যতা এবং নিম্নবিত্তের বিচিত্র জীবনবোধ প্রকাশিত হয়েছে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের বিশেষ শ্রেণির প্রতি দুর্বলতা; বিশেষ করে শুধুই এলিট শ্রেণিকে সাহিত্যের মধ্যমণি করাকে একপেষে দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেছেন এবং সেই বেদনা থেকে সাহিত্য রচনায় প্রবৃত্ত হন। সাহিত্যে সমাজজীবনকে সমূলে উপস্থাপন করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
সঙ্গত কারণেই তিনি তাঁর সাহিত্যে সকল শ্রেণির জীবনবোধকে নিরাসক্ত ভাবে উপস্থাপন করেছেন । বর্তমান অভিসন্দর্ভে আলোচিত উপন্যাসসহ মানিক বন্দ্যো পাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস পর্যালোচনা করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির জীবন এবং তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।
এই অভিসন্দর্ভ রচনায় আমি অনেকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা পেয়েছি। এম.ফিল. গবেষণার স্বপ্ন অঙ্কুরিত হয়েছিল আমার বাবা মোঃ গোলাম মোস্তফা হিলালী’র প্রেরণায়। তাঁর পদযুগলে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরকে। তাঁর দিক নির্দেশনা, সুচিন্তিত মুল্যায়ন-পরামর্শ এ অভিসন্দর্ভ রচনার মূল চালিকাশক্তি।
তিনি অসীম ধৈর্যের সঙ্গে গবেষণাকর্ম সংশোধন এবং বিভিন্ন ব্যাখা-বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর এ ঋণ অপরিশোধ্য। গবেষণায় উৎসাহ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাবিব উল্লাহ বাহার এবং আমার তিন ভাইবোন। সাহায্য করেছেন নাট্যজন মান্নান হীরা এবং ইস্রাফিল শাহীন।
প্রতিনিয়ত আশীর্বাদে সিক্ত করেছেন আমার মা মমতাজ মহল। নিরন্তর পাশে থেকে সাহস ও পরামর্শ দিয়েছেন, বিভিন্ন বই ও তথ্য সংগ্রহ করে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছেন আমিনুর রহমান মুকুল। আমার সন্তান টইটই’য়ের বেড়ে ওঠার সমান্তরালে রচিত হয়েছে অভিসন্দর্ভটি।
গবেষণা কাজে আমি ব্যক্তিগত সংগ্রহ, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র লাইব্রেরি, শাহজাদপুর শাখা, শাহজাদপুর সরকারী কলেজ লাইব্রেরি ব্যাবহার করেছি। এছাড়া ছোট বোন মোখলেছা হিলালী ও ভাই মারুফ হিলালী বই সংগ্রহ করে দিয়েছে। গবেষণা কাজে আরো অনেকের সহায়তা পেয়েছি স্বল্প পরিসরে যাদের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হলো না। আমি সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
সূচীপত্র
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ প্রস্তাবনা
প্রথম অধ্যায়: বাংলা উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
পূর্বকাল : দূরবীক্ষণে ঐতিহ্য অনুসন্ধান
সমকাল : অন্যান্য ঔপন্যাসিক ও তাঁদের রচিত উপন্যাস
দ্বিতীয় অধ্যায় :
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: জীবন ও সাহিত্য
জীবন: কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান-পূর্ব
জীবন: কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান-উত্তর
তৃতীয় অধ্যায়
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানস গঠন
চতুর্থ অধ্যায়
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য
পঞ্চম অধ্যায়
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস জীবন
নারী চরিত্র
পুরুষ চরিত্র
শিশু চরিত্র
ষষ্ঠ অধ্যায় : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ শ্রেণি
অর্থনৈতিক সমস্যা
সামাজিক হালচাল
পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জীবনধারা
উপন্যাস সমাজ সংসারজীবন
উপন্যাস সমাজ সংস্কার
ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান
ধর্মের নামে ভণ্ডামি
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ বিনোদন
মানুষ সম্পর্কে বোধ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ আধিপত্য
সমাজে নারী
যৌন চেতনা
উপসংহার
সহজ-সরল ভাষা এবং স্বচ্ছন্দ গতিতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনসত্যকে সাহিত্যে স্থাপন করেছেন। তাঁর সাহিত্য কর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য মানুষের অন্তর্জীবন প্রকাশে দায়বদ্ধতা। শৈশব থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গতানুগতিকতাকে পরিহার করে নিজে অস্তিত্বশীল হয়েছেন এবং সাহিত্যকর্মে এনেছেন নতুনত্ব।
তাছাড়া, সত্তাসন্ধানী মানুষের জন্য তিনি কেবল পরিবেশ-পরিস্থিতিই অঙ্কন করেন নি, তাঁর স্বপ্নের ভুবনও রচনা করেছেন। পাঠককে জানিয়েছেন তাঁর কাঙ্ক্ষিত পৃথিবীর কথা। তাই তিনি সমকালের হয়েও কালোত্তীর্ণ। তাঁর চরিত্রগুলো পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করে নি, সমস্যার ভেতরে প্রবেশ করে বেঁচে থাকার স্বাদ গ্রহণের চেষ্টা করেছে।
আলোচিত উপন্যাসগুলোতে (‘জননী’, ‘জীবনের জটিলতা’, ‘শহরতলী’, ‘অহিংসা’, ‘চতুষ্কোণ’) উল্লিখিত নারীচরিত্র- শ্যামা, মন্দা, সুপ্রভা, শান্তা, প্রমীলা, লাবণ্য, যশোদা, সুবর্ণ, সরসী, মালতীসহ প্রায় সকলেই কম-বেশি তাদের অবস্থানে সংগ্রামশীল এবং পরিস্থিতির মোকাবেলা করে অস্তিত্বশীল হয়ে ওঠার সাধনায় সদা তৎপর। তারা জীবন ও সংসারকে অস্বীকার করে নি, বরং এগুলোকে স্বীকার করেই সে সংসারে স্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে।
পুরুষচরিত্রগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা যায় কেবল শীতল আর জ্যোতির্ময় ছাড়া সকলেই আপন অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় নিয়ত তৎপর। এমনকি শিশুচরিত্রের ক্ষেত্রে বিধান, বকুল, বিমল, প্রমীলাও তাদের অবস্থানে সক্রিয়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরাধ্য জীবনচেতনা। সমাজের ক্ষতচিহ্নগুলো পাঠকের সামনে উন্মুক্ত করে তিনি এ থেকে পরিত্রাণের অনুভব জাগ্রত করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, আলোচিত উপন্যাসগুলো একটি থেকে অন্যটি স্বতন্ত্র। ‘জননী’ এবং ‘জীবনের জটিলতা’ দুই-ই নিম্নমধ্যবিত্তের কাহিনী। কিন্তু তাদের সামাজিক পরিবেশ, জীবনবোধ, চাওয়া-পাওয়ার হিসেব, মূল্যবোধ সবই ভিন্নতর। তেমনি ‘শহরতলী’, ‘অহিংসা’, ‘চতুষ্কোণ’ এ সমাজজীবনও আলাদা। এ সমাজ এবং সমাজের মানুষগুলো শুধু সাহিত্য সৃষ্টির জন্য আসে নি, জীবন থেকেই উঠে এসেছে।
সমাজব্যবস্থার স্তরে স্তরে আলাদা আলাদা জীবন এবং পরিবেশে মানুষ বেড়ে ওঠে, তাই সেই সমাজ যেমন ভিন্ন, তার জীবনও তেমনি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আবর্তিত। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের প্রতিটি জায়গায় তাঁর দৃষ্টির আলো ফেলেছেন এবং সাহিত্যে তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। আলোচিত উপন্যাসে সে প্রমাণ আমরা পেয়েছি।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিচিত্র পেশা ও শ্রেণির চরিত্র স্থান লাভ করেছে। আমাদের পর্যালোচিত পাঁচটি উপন্যাসে এই পেশা ও শ্রেণির মানুষের সমন্বয় দেখা যায়। শুধু তাই নয়, উপন্যাসে সক্রিয় চরিত্রগুলোর মধ্যে লৈঙ্গিক বিবেচনায় নারী ও পুরুষ চরিত্র প্রায় সমান।
তিনি তখনও কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন নি (যোগদান ১৯৪৪), তখনও পার্টির বাধ্যবাধকতা তাঁর সাহিত্যজীবনে আরোপিত হয় নি, নির্দিষ্ট দর্শনে তখনও তিনি আবর্তনের পথসূচনা করেন নি- এজন্যেই সম্ভবত একটি সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গি এ উপন্যাসগুলোর চরিত্রাবলির উপর পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তবে, লেখকের নৈয়ায়িক শিল্পবোধ এবং শুভচেতনা; যাকে একত্রে শিল্পীর নিরাসক্ত দৃষ্টি বলা যায়, এই দৃষ্টির আলোকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সে সময়ের চরিত্রাবলিকে সাজিয়েছেন ইতি-নেভির পারস্পার্থে, ভালো-মন্দের সাজুয্যে, শুভ-অশুভের পরম্পরায়। যে কারণে কোনো বিশেষ ধরণের বা শ্রেণির চরিত্রের প্রতি লেখকের পক্ষপাত পরিদৃষ্ট হয় না, লেখক কোনো নির্দিষ্ট মতবাদে ঝলসে নেন না চরিত্র-বিশেষকে।
আলোচিত উপন্যাসের বিশ্লেষিত চরিত্রগুলোকে তাই উঠে আসতে দেখা যায় সামাজিক দ্বন্দ্ব সমন্বয়ের মধ্যে। জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোকে অতিক্রম করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যে সময় উপন্যাস রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন, সে সময় নারীদের মধ্যে সম্ভবনার বীজ অনেক লেখক অনুধাবন করলেও মূল চরিত্র হিসেবে নারীকে স্থান দিতে কুণ্ঠিত ছিলেন।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে নারীকে স্থাপন করে উপন্যাস রচনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এ শুধু দক্ষতা নয়, বাংলা উপন্যাসে এ এক নিরব বিপ্লবের সূচনাও। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে যে নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করে মানবজীবন ও তার সমাজকে তুলে আনেন তা মানিকের পূর্বসুরিদের থেকে পৃথক, উত্তরসূরিদের জন্য অনুকরণীয় ছিল। আমাদের আলোচিত পাঁচটি উপন্যাসেও সেই নবদৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় ।

