আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবিম্ব উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবিম্ব উপন্যাস
বাস্তব এবং কল্পনার জন্ম নিয়ে লেখা ‘প্রতিবিম্ব’ (১৯৪৩) উপন্যাস। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাঙালি মধ্যবিত্ত শিক্ষিত যুবকের অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখিয়েছেন। শিক্ষিত যুবক তারকের কাহিনী উপন্যাসের বিষয়। তারকের বাবার পেনশন এবং অল্প কিছু জমিজমার টাকায় সংসার চলে। তারকের ভাই সপরিবারে বিদেশ থাকে। বৌদি তারককে চাকরি করার পরামর্শ দিয়ে বড় বড় চিঠি লেখে।
তারকের বাবাও ছেলের চাকরির জন্য অনেক দরখাস্ত করেছে, কিন্তু একটিরও জবাব আসেনি। একদিন জানা গেলো তারক দরখাস্তগুলো ছাড়ে নি, সে চাকরি করবে না, রামবাবুর রাজনীতি করবে। শেষ পর্যন্ত বাবা তারকের বিয়ে দিয়ে দিলো। শ্বশুর তাকে চাকরি দেবে। যুদ্ধের অফিসে কেরানির চাকরির জন্য একটি চিঠি দিয়ে শ্বশুর তাকে কলকাতায় পাঠালো আর তার খুড়ো শ্বশুরের বাড়ি উঠতে বললো। কিন্তু তারক রামবাবুর কাছে থেকে চিঠি নিয়ে পার্টি কেন্দ্রে গিয়ে উঠলো।

সেখানে তারকের পরিচয় হলো পার্টির সেক্রেটারি, মনোজিনী, সীতানাথ প্রমুখের সঙ্গে। মনোজিনী স্কুলে শিক্ষকতা করে, তার স্বামী কলেজের অধ্যাপক, রাজনীতির কারণে জেলে গিয়েছে। মনোজিনীর বাড়িতে পার্টির কর্মীরা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে। ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা। একই ঘরে তারা ঘুমায়ও। তারক এদের এ সহজ সম্পর্ক দেখে অবাক হয়ে যায়। হঠাৎ সীতানাথ এসে মনোজিনীকে প্রেম নিবেদন করলে তারক তাকে মারধর করে।
তখন মনোজিনী তারককে বুঝায় যে সীতানাথ এখনো মেয়েদের সাথে মেলামেশায় অভ্যস্ত হয়নি। মেয়েদের সঙ্গে এখনো ওর ড্রইংরুমী কৃত্রিম মেলোমেশাই আছে তাই সীতানাথ এই বেয়াদবি করেছে। বিধি-নিষেধ, আইন-কানুন ঘুচে গেলে সীতানাথও সবার সঙ্গে এক হয়ে যাবে। তারক কখন বিষয়টি বুঝতে পারে। এরপর তারক যুদ্ধের অফিসে যায় চাকরির জন্য এবং প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয় না, নিজেকে হাবাগোবা করে রাখে।

তাই তারকের চাকরি হয় না। কিন্তু পার্টি কেন্দ্রে এসে দেখে পার্টির লোকেরাও চায় যে তারক চাকরি করুক আর অবসর সময়ে পার্টির কাজ করুক। তারকের চিন্তাধারা এলোমেলো হয়ে যায়। লেখক এখানে তারকের চিন্তা চেতনার মধ্য দিয়ে সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
তারক রাশিয়ার ভাবদৃষ্টি দিয়েই সবকিছু দেখতো, কিন্তু তার ভুল ভেঙে গেলো। সে মানুষকে চিনতে জানতে তাই গ্রামে ফিরে এলো। তারক বাবাকে বললো হার্টের অসুখ বলে তার চাকরি হয়নি আর স্ত্রীকে বললো যে তার পাহারায় হার্টের রোগ সারিয়ে তুলবে। এখানে তারকের ভাবময়তা তীব্র বাস্তবতার কশাঘাতে বস্তুবাদী হয়েছে।