আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ জিয়াউর রহমানের শাসনকাল । যা বাংলাদেশের উপন্যাসে নৈতিক বিবেচনার উপন্যাসে নৈতিক বিবেচনা শ্রেয়ের সন্ধান এর অন্তর্গত।

জিয়াউর রহমানের শাসনকাল
মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান শাসন ক্ষমতায় আসেন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কতকগুলো ক্যু, হত্যা ও প্রশাসন কার্যের রদবদলের মধ্য দিয়ে। ১৯৭৫ সালটি ছিল যেন একটি ষড়যন্ত্রের চক্রে আবদ্ধ বছর। খোন্দকার মুশতাক আহমদ নির্বাচিত না হয়েই এবং শপথ গ্রহণের আগেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা দখল করেছিলেন।
এই সবকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত করা হয়েছে পরবর্তীতে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ সংশোধন করে। সংশোধনীতে সামরিক আইন জারিকে যে কোন প্রকারের আদালতের আওতা বহির্ভূত রাখা হয়। ১৯
মুশতাক আহমদ ২১ আগস্ট সংবিধান সংশোধন ও সামরিক আইন জারি সম্বন্ধে যা বলেন, তার সারমর্ম এই ১. সামরিক আইন জারি সত্ত্বেও সংবিধান বহাল থাকবে, ২. চারটি রাষ্ট্রনীতি : গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা অটুট থাকবে, ৩. জাতীয় সংসদ বিলোপ হয়নি।
এতদসত্ত্বেও ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মত এক সামরিক অভ্যুদয় ঘটে। এই দিন ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবেও পালিত হয়। নায়ক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ। তিনি ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের ঘটনাকে মেনে নিতে না পেরে সামরিক প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান আইন শৃঙ্ক্ষলা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে তাঁকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ এবং ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানের নায়কদের বিদেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।
এদিকে মোশারাফের অজান্তে অভ্যুত্থানকারীরা দেশ ত্যাগের পূর্বে জেলখানায় বন্দী আওয়ামী লীগের চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতা, তাজুদ্দিন আহমদ, মনসুর আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান প্রমুখকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খালেদ মোশারাফ ৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মুশতাক আহমদকে বিচারপতি সায়েমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য করেন।

তবে এ কাজে তিনি ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সমর্থন পেলেও সাধারণ সৈন্যদের সমর্থন লাভ করতে পারেন নি। তাই দেখা যায়, অভ্যুত্থানকারীদের দ্বারা একই কৌশল প্রয়োগে ৭ নভেম্বর আরেকটি সশস্ত্র অভ্যুদয় ঘটে। যা নাকি সিপাহী বিপ্লব বা সংহতি দিবস হিসেবে খ্যাত। সুতরাং
Sheikh Mujibur Rhman on January 25, the coup of the Junior officers on August 15 in which sheikh Mujib was assasinated and Khondkar Mushtaq Ahmed was brought to power, the coup of khaled Musharraf on November 3 in which Mushtaq was toppled from power, nad finally the army mutiny on November 7 in which Musharraf was killed and General Zia was installed as the defacto leader of the military regime. The rapid succession of coups and counter coups. and the uprising in the army made many political analysts skeptical about the survival of the regime; but Ziaur Rahman surprised political observers both at home and abroad by continuing to stay in power for over four years.”
খালেদ মোশাররফের বিরোধী শক্তি ছিল তখন অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল তাহের ও হাসানুল হক ইনু। এই জাসদ নেতাদের নেতৃত্বে ৭ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে এক সিপাহী বিপ্লব সংঘটিত হয়। এতে খালেদ মোশাররফ তাঁর অনেক সমর্থকসহ নিহত হন। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কার্যত বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১০ নভেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে এক অনির্ধারিত ভাষণ দান করেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন :
আজ জাতির সামনে সবচেয়ে বেশী যা প্রয়োজন তা হচ্ছে জনগণের মধ্যে ঐক্যবোধ সমারিক বাহিনীর মধ্যে একতা এবং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি।8
সামরিক সরকার সমস্ত রাজনৈতিক দল বা গণজমায়েত বন্ধ করে সামরিক বাহিনী এবং জনগণ- ঐক্যবোধের সম্প্রীতি বজায় রাখবে বললেও পরিণামে দেখা যায় সামরিক রাজনীতির উপর ভিত্তি করে তাদের দুটো বিশেষ নীতি অধিকৃত হয়েছে।
প্রথমত: সামরিক সরকার রাজনৈতিক শক্তিকে বাকশাল বিরোধী করে তুলতে সচেষ্ট হন। সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় বামপন্থী ও ডানপন্থী শক্তিগুলো নিজেদেরকে বাকশালীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ করে তোলে। …… স্বল্পকালের মধ্যেই সারাদেশে একটা বাকশাল বিরোধী ও রুশ-ভারত বিরোধী জনমত গড়ে উঠতে থাকে।
দ্বিতীয়ত: সামরিক সরকার ব্যাপকভাবে সীমান্তচাপ প্রতিরোধ, ফারাক্কা সমস্যার সমাধান, শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার এবং গ্রামেগঞ্জে স্বনির্ভর আন্দোলন গড়ে তোলেন। … আর এই উদ্দেশ্য। সামনে রেখে বাকশাল বিরোধী শক্তিবর্গের নিকট আস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালের গোড়া থেকেই বিশেষ ক্ষমতা আইন ও জরুরি ক্ষমতা বিধি অনুসারে আটককৃত ব্যক্তিদেরকে মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে আনীত মামলাসমূহের পুনর্বিবেচনা শুরু করেন।
জিয়াউর রহমান তাঁর সরকারকে নির্দলীয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা বলে জাতিকে জানান এবং এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দল গঠন এবং সাংগঠনিক কার্যকলাপে অনুমতি দিয়ে ১৯৭৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন হবে বলে সকলকে অবহিত করেন।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি সংবিধানের মূলনীতির ক্ষেত্রে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনয়ন করেন।
১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতি থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্রের’ পরিবর্তন সাধন করে যথাক্রমে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি সর্বাত্মক বিশ্বাস ও আস্থা’ এবং ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় বিচারের সমাজতন্ত্র’কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে কেবলমাত্র গণতন্ত্রকে অপরিবর্তিত রেখে গ্রহণ করেন।
এছাড়া ১৯৭৬ সালের ৩ মার্চ তারিখের সামরিক সরকারের এক হ্যান্ড আউটে দেখা যায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ইস্যুগুলি ছিল তা আবার পুণোরোথাপিত প্রশ্ন হয়ে দেখা দিল।
Are Bengali Muslims Bengali first and Muslim Second, or Muslim first and Bengali Second? Should Bangaldesh have a parliamentary democracy or should it have a presidential system of government with controls on funda mental political freedom? Should the country follow the capitalist or the social ist road to development?”
জিয়াউর রহমান তাঁর সামরিক প্রক্রিয়াকে বেসামরিক প্রক্রিয়ায় বৈধকরণ নীতিতে নিয়ে আসেন দুটি পদ্ধতি। একটি হচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। অপরটি হচ্ছে গণভোটের ব্যবস্থা। জিয়া সরকার বৈধকরণ নীতির উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে গণভোট অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করেন।
ইতিপূর্বে ২২ এপ্রিল ১৯৭৭ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন। তিনি জনগণের কাছ থেকে শতকরা ৯৯ ভাগ ভোট গ্রহণ করেন এবং আরও বৈধকরণ করার মাধ্যম হিসাবে ১৯৭৮ সালের ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সুতরাং বহুদলীয় পন্থায় জিয়াউর রহমান অন্যান্য মিলিটারী শাসকদের মতই নিজস্ব আইন প্রণয়ন করে চললেন।
Similar to other military rulers, Ziaur Rahman tried to legitimize his regime by ‘civelianizing’ and ‘democratizing’ his rule and similar to other such ‘civil- ianized’ and ‘democratized’ regimes Zias too remained essentially a personal rule. As power continued to remain concentrated in his hands ….. There is no concensus amongst the elites, who are contending for political power, about the political system or about the rules of the political game.”
সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার প্রারম্ভ থেকেই রাজনীতিকদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জিয়ার অনুপ্রেরণায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) সৃষ্টি হয় এবং এর নেতা হলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। পরবর্তীতে ২৯ জুন ১৯৭৮ এ রাষ্ট্রপতি তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে ২৮ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করেন।
জাতীয়তাবাদী শরীক দলগুলোর সমন্বয়ে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ নামে একটি দলের কথা সভায় উত্থাপন করলে জিয়াউর রহমানের সাথে মতপার্থক্য দেখা দেয়, ব্যরিষ্টার মওদুদ আহমদ, আবুল হাসনাত, মির্জা গোলাম হাফিজ, কে.এম. ওবায়েদুর রহমানসহ প্রমুখ বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের সাথে।পরে রাষ্ট্রপতি জিয়া আবদুস সাত্তারকে দলের আহ্বায়ক করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ এক নির্দেশ জারি করে সকল অঙ্গদলসহ জাগদলকে বাতিল বলে ঘোষণা করেন।
এভাবে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে রাষ্ট্রপতি জিয়া ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা গ্রীনে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যভিত্তিক একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন যার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি)। দল গঠনের ফলে রাষ্ট্রপতি জিয়ার পক্ষে সমগ্র দেশব্যাপী সমর্থন পাওয়া অনেক সহজ হয়।
জিয়া সরকারের আমলে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৯৭৫ সালের ৪র্থ সংশোধনীর পরিবর্তন সাধন করে পঞ্চম সংশোধনী আইন নির্মিত হয়। জিয়াউর রহমানের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী আদেশ ১৯৭৮ নামে অভিহিত এবং অন্যান্য সংশোধনী থেকে ভিন্নতর। কারণ এই পঞ্চম সংশোধনী আইন সরাসরি কোন সংবিধানের কোন আইনকে পরিবর্তন বা সংশোধন করে নি। বরং সামরিক শাসনামলের বিভিন্ন ফরমান ও আদেশ বলে বাংলাদেশ সংবিধানে যা সংশোধন করা হয় তা পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধ করা হয়।
জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনের বৈশিষ্ট্যে দেখা যায় অন্যান্য দলের বিরোধী ভূমিকা পালন করেও তিনি তাঁর রাজনৈতিক দলকে নিরপেক্ষ ও উদারনৈতিক বলে আখ্যায়িত করেছেন।১০ আইন শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ ব্যবস্থার জন্য। নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কর্মকর্তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা ক্ষেত্রে তেমন কোন সুযোগ্য ভূমিকা নিতে পারেন নি। সমাজতন্ত্রের অবসানে সামরিক কায়দায় গণতান্ত্রিকতা প্রচার করেছেন মাত্র।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন তাঁর সামরিক শাসনামলকে বৈধ করার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে জাতি গঠনমূলক কাজে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক নতুন খাতে প্রবাহিত করতে সচেষ্ট হন ঠিক তখনই ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা বিদ্রোহে তিনি নিহত হন। তাঁর এই মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণ অভাবনীয় ও অস্বাভাবিক।

তিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সেনা বিদ্রোহ, গোলযোগ, ধর-পাকড়, অভ্যুত্থান, হতাহত লেগেই ছিল। এ অবস্থায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সামরিক শাসন জারি এবং সমস্ত রাজনৈতিক নীতিমালা বন্ধ ঘোষণা হয়। দেশের রাজনৈতিক সামাজিক রাষ্ট্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা অনৈতিকতা, দলীয় কার্যক্রমে বিদ্রোহ, ক্ষমতার লোভ, ভাঙন, ষড়যন্ত্র চলছিল তা প্রতিহত করার জন্য কালবিলম্ব না করে বিচারপতি উপরাষ্ট্রপতি আব্দুল সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে শপথ গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের ঔপন্যাসিকদের উপন্যাস এই বিরুদ্ধ সময়প্রতিবেশে হয়ে উঠে অত্যন্ত সুকৌশলী ও সজাগ। তাঁরা তাঁদের কাহিনী বর্ণনায় গ্রহণ করলেন বৃত্তাবদ্ধ আত্মপলায়নপর মানুষের অসঙ্গতিপূর্ণ জীবনাচার। উপন্যাসে দেখা দিল আকাঙ্ক্ষা বাস্তাবায়িত না হওয়ার ফলে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা।
মৌলবাদী সংস্কারকে পুনরুজ্জীবিত করে স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক শাসন কায়েম হলো। সে সাথে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারও লঙ্ঘিত হলো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের জনস্রোত একটি নির্দিষ্ট সত্যে উপনীত হয়েছিল স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকারে। কিন্তু সামরিক কর্তত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৭৯ সালের ২ এপ্রিল গঠিত দ্বিতীয় সংসদ বহাল থাকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত। এই সংসদে মোট ২৭ টি অধ্যাদেশ জারি হয়। ১২
জিয়াউর রহমান অপরাধীর শাস্তি, বিচারের ব্যবস্থা করেন নি। উপরন্তু পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিরোধীদলের মতবিরোধী বিল বৈধকরণ প্রক্রিয়াই হচ্ছে এই পঞ্চম সংশোধনী বিল।
এছাড়া তাদের বিদেশে পাচার করে দিয়ে পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছেন। যা নাকি সংসদীয় এবং মানবীয় কর্যক্রম সংবলিত সরকারী ব্যবস্থা নয়। জনগণ দেখেছে বহুদলীয় সরকারি ব্যবস্থায় সামরিক নিয়মনীতির বহিঃপ্রকাশ।অসংগঠিত রুঢ় সমাজবাস্তবতা ও সময়কাল নির্ধারণের শাসনামলই উপন্যাসে কখনও রূপক বা প্রতীকী তাৎপর্যে ক্রমবিস্তার লাভ করেছে।

এ সমস্ত উপন্যাস হচ্ছে
- সৈয়দ শামসুল হকের ‘দূরত্ব’ (১৯৮১), ‘নীলদংশন’ (১৯৮১), ‘নিষিদ্ধ লোবান’ (১৯৮১), ‘ফিরে চলা’ (১৯৮১)।
- হাসানাত আবদুল হাই এর ‘তিমি’ (১৯৮১), ‘আমার আততায়ী’ (১৯৮০); সেলিনা হোসেনের ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ (১৯৭৬), ‘মগ্ন চৈতন্যে শিস’ (১৯৭৯), কাঁটাতারে প্রজাপতি’ (১৯৮৯), ‘ক্ষরণ’ (৮৮), ‘যাপিত জীবন’ (১৯৮১)।
- রিজিয়া রহমানের ‘উত্তর পুরুষ’ (১৯৭৭), ‘অরণ্যের কাছে’ (১৯৭৯), ‘শিলায় শিলায় আগুন’ (১৯৮১), ‘অলিখিত উপাখ্যান’ (১৯৮০), ‘বং থেকে বাংলা’ (১৯৭৮)।
- রশীদ করিমের ‘প্রেম একটি লাল গোলাপ’ (১৯৭৮)।
- রিজিয়া রহমানের ‘ধবল জ্যোৎস্না’ (১৯৮১), ‘সূর্য সবুজ রক্ত’ (১৯৮১), রক্তের অক্ষর’ (১৯৭৮), ‘ঘর ভাঙ্গা ঘর’ (১৯৭৪), ‘সাধারণ লোকের কাহিনী’ (১৯৮১), ‘একালের রূপকথা’ (১৯৮০)।
- বশীর আল হেলালের ‘কালো ইলিশ’ (১৯৭৯)।
- শওকত ওসমানের ‘দুই সৈনিক’ (১৯৭৪), নেকড়ে অরণ্য’ (১৯৭৩), ‘জলাংগী’ (১৯৭৬)।
- শওকত আলীর, ‘যাত্রা’ (১৯৭৮), ‘যেতে চাই (১৯৮৮)।
- রাজিয়া খানের ‘প্রতিচিত্র’ (১৯৭৬)।
- আবু জাফর শামসুদ্দীনের ‘প্রপঞ্চ’ (১৯৮০)।
- দিলারা হাশেমের ‘আমলকীর মৌ’ (১৯৭৮), ‘কাকতালীয়’ (১৯৮৫)।
- আবুল ফজলের ‘পরাবর্তন’ (১৯৮০) প্রভৃতি।
এই সব উপন্যাসে উন্মোচিত হয়েছে দেশবাসীর ব্যক্তিক পরিবারিক, সমাজজীবনে নিরন্তর মুক্তির অন্বেষা। ঔপন্যাসিকগণ জাতিসত্তার উদ্বুদ্ধে পরাজয় ক্লিষ্ট ব্যর্থতা থেকে পলায়নপর অবলম্বন থেকে সমাজ সত্যের ইতিহাস তুলে ধরার জন্যও আত্মরক্ষার জন্য ব্যকুল হয়ে উঠলেন। জাতিসত্তাকে আত্মপরিচয়হীনতার বলয়ে নিক্ষেপ করেছে সামরিক তন্ত্র।
উপন্যাসের পাত্র-পাত্রীদের চরিত্রে ও যেন চলে আসল বিচূর্ণিত সময়ের বৃত্তবদ্ধতা এবং এ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে অগ্রগমনের প্রচেষ্টা। কারণ বিরুদ্ধ সময় পরিবেশে সুবিধা বেসী সমাজ মানসে সংকট দেখা দেয় গণতন্ত্রের। তাই তারা হয়ে উঠে আত্মাঅনুসন্ধ্যে, তারই মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় এই সমগ্রতা স্পর্শী উপন্যাসের সময় প্রবাহ নির্মিত হয়েছে।