মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তামণি উপন্যাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তামণি উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তামণি উপন্যাস

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তামণি উপন্যাস

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকায় আকাল পিরীত গ্রামবাংলার কাহিনী নিয়ে ‘চিন্তামণি’ (১৯৪৩) উপন্যাসটি লিখেছেন। উপন্যাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে থেকে যুদ্ধ চলাকালীন সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অঙ্কিত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে গ্রামের কৃষক সম্প্রদায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।জমিদার, জোতদার, উকিল, ডাক্তার, মিল মালিক সকলের শোষণে কৃষক সম্প্রদায়ের অবস্থা দুর্বিসহ হয়ে ওঠে।

চিন্তামণি কৃষক সম্প্রদায়ের মেয়ে। পেটের তাড়নায় সে মধুবনী যায়। পটল তাকে হরমনি রাইস মিলের মালিক নীলকন্ঠ ঘোষালের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ জুটিয়ে দেয়। উপন্যাসের শুরু হয়েছে চিন্তামণির দিদি চিঠি দিয়েছে কাজের জন্য সে বড়মিহিপুর গেছে। দিদি সেখানে দাসীর কাজ করে, কিন্তু ধর্ম সতীত্ব কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এই অবস্থায় চিন্তামণিতে আসতে বলতে পারছে না দিদি। মধুবনী এসে গৌরের সঙ্গে পরিচয় হয় চিন্তামণির।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তামণি উপন্যাস

 

গৌরের কাকা তাকে ঠকিয়ে জমিজমা করেছে। গৌরের ঘরে চাল নেই। জমিজমা, ঘরদোর, বাসনপত্র সব গেলো তার। তারপর বোন আর মা মরে গেলো। গৌর কৃষক। কৃষকদের কারখানায় মজুরি করা পোষায় না। সব কিছু হারিয়ে চিন্তামণি আর গৌর কাছাকাছি আসে। তারপর গৌরের ভয় হয় বিয়ে করতে। সে চিন্তামণিকে না বলে মামার বাড়ি চলে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে বুঝতে পারে চিন্তামণিকে ছাড়া তার চলবে না।

এদিকে গৌরের চলে যাওয়ার পর চিন্তামণি চিন্তা করে গৌরকে সে পাবে না। তাকে জীবনসঙ্গী করা অসম্ভব। পেটের ক্ষুধার সঙ্গে মনের চাওয়াও এখানে মুখ্য হয়েছে।

“লেখক অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে যুদ্ধবিধস্ত গ্রামবাংলার চিত্র অঙ্কনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের উত্থান পতনের চিত্র এঁকেছেন। ১০

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তামণি উপন্যাস

 

গৌর এলে চিন্তামণি তাকে বলে এখানে না খেয়ে মরার চেয়ে বড় মিহিপুরে দুজন একসঙ্গে যাই। দুজন একসঙ্গে থাকলে কোনোমতে চলে যাবে। গৌর রাজি হয়। সর্বহারা দুটি মানুষ একে অপরের কাছাকাছি আসে। দুজনই কৃষক পরিবারের সন্তান। কারখানায় দুজন কাজ করবে। এই আশার মধ্য দিয়ে উপন্যাস শেষ হয়েছে।

”চিন্তামণি একটা অবক্ষয়ের উপন্যাস, ভাঙনের উপন্যাস। আমতাত্তা অসহায় মানুষের কলে-কারখানায় মঞ্জুরগিরি করার ইতিহাস …………. শ্রমিক চেতনায় উত্তরণের মধ্যেই উপন্যাসের শেষ। ১১

মানিক দেখিয়েছেন, মুক্তির জন্য মানুষ পেশা পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজনে নুন্যতম অবলম্বনে বেঁচে থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে।

Leave a Comment