আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুষ্কোণ উপন্যাস। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চতুষ্কোণ উপন্যাস
‘চতুষ্কোণ’ (১৯৪২) উপন্যাসটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি যৌনবিকারের উদ্ভট প্রেমের কাহিনী। উপন্যাসে রাজকুমার নামের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বিভিন্ন মেয়ের সাথে মিশে তাদের মধ্য থেকে থিওরি আষ্কিারের চেষ্টা করে। শেষপর্যন্ত রিণি নামের একটি মেয়ে পাগল হয়ে যায়।
রাজকুমার শিক্ষিত অবস্থাসম্পন্ন। বাড়িতে দূর সম্পর্কের এক দিদি মনোরমা ও তার পরিবার থাকে। বাড়ির ভাড়া দেওয়ার পরিবর্তে দিদি তাকে রান্না করে খাওয়ায়। মনোরমার আরো একটি উদ্দেশ্য আছে বোন কালীকে রাজকুমারের সাথে বিয়ে দেওয়া। তাই কালীকে বাড়িতে এনে রেখেছে এবং বিভিন্ন সময় রাজকুমারের ঘরের কাজের ছুতোয় কালীকে মনোরমা পাঠিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, যুবতীমহলেও রয়েছে রাজকুমার সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ। এমনকি তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায়ও নামে।

উচ্চশিক্ষিত সরসী তাকে মধ্যমণি করে সভা ডাকে। এই সভায় উপস্থিত ছিল শ্যামল। সে বিভিন্নভাবে রাজকুমারকে পরাপ্ত করে। শ্যামল মালতীকে ভালোবাসে, কিন্তু মালতীর বিশেষ আগ্রহ গৃহশিক্ষিক রাজকুমারের দিকে। এক বৃষ্টির সন্ধ্যায় শ্যামল জানালা দিয়ে দেখে মালতীর পন্থনে রাজকুমার দাঁড়ানো, মালতীর চুলে রাজকুমার মাথা রেখেছে।
রাজকুমার পরে বাড়ি ফেরার পথে শ্যামলকে বৃষ্টি ভেজা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। শ্যামল এভাবেই রাজকুমারের বাড়ি আসে। রাজকুমারকে জিজ্ঞাসা করে সে মালতীকে বিয়ে করবে কি-না। এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না রাজকুমার। এর আগে রাজকুমার গিরি নামের একটি মেয়ের পাল্স দেখতে গিয়ে বুক পরীক্ষা করেছিলো সে কথা বলে শ্যামল তাকে অশ্রদ্ধা জানিয়ে যায়।
রাজকুমার তখন জেদ করে কালীকে ডেকে এক হাত দিয়ে বেষ্টন করে কালীর বুক পরীক্ষা করে। এই রাজকুমার একদিন রিণির চুম্বনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো। আবার একদিন রিণির নিরাবরণ দেহ সে দেখতে চায় থিওরি আবিষ্কারের জন্য। এমনি উদ্ভট বিকৃত রাজকুমার।

সরসী তার নিরাবরণ দেহ দেখিয়ে রাজকুমারকে শান্ত করে। মালতী রাজকুমারকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলের রুম ভাড়া নিলে রাজকুমার তাকে নিবৃত করে। অন্যদিকে রিণি উন্মাদ হয়ে যায়। সরসীর কাছে খবর পেয়ে রাজকুমার তাকে দেখদে যায়। এরপর দেখা যায় রিণি কারো কথা শোনে না, শুধু রাজকুমারকে দেখলে শান্ত থাকে।
মনোরমা অবস্থা বেগতিক দেখে কালীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং নিজেও কিছুদিন পর অন্য বাড়ি ভাড়া নেয়। রাজকুমার রিণিদের বাড়ি সর্বক্ষণ থাকে। সে রিণিকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু রিণির বাবা তাতে বাধা দেয়, এতে রাজকুমারের যাওয়ার পথ খোলা থাকে। সরসীও রাজকুমারকে তাই বলে। আরো বলে, “জীবনতো খেলার জিনিস নয় মানুষের”।
এ উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন অসুস্থ-বিকৃত চিন্তার রাজকুমারের মানবিক হয়ে ওঠা।