মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ এর অন্তর্গত।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব

বাঙালির একটি বিশেষ দিক গুজবে বিশ্বাস করা এবং গুজব ছড়ানো। ‘শহরতলী’ উপন্যাসে বুড়ো মতিকে কেউ মারধর করলে গুজব রটে যে মতিকে মেরে ফেলা হয়েছে। এই নিয়ে দুই দল শ্রমিকের ভেতর মারামারি আরম্ভ হয়ে গেলো। এরপর পুলিশ এসে আথালিপাথালি সকলকে মারধর করলো।

কিছু শ্রমিক গেলো হাসপাতালে, কিছু হাজতে মিল অঞ্চল জনশূন্য হয়ে পড়লো। এরপর যশোদা হাসপাতালে মতিকে দেখতে গেলে আবার গুজব রটলো যে যশোদাকে এমন পিটানি দিয়েছে যে তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। তাই পরদিন কোনো শ্রমিক সত্যপ্রিয়র মিলে কাজ করতে গেলো না। মিলে ধর্মঘট শুরু হয়ে গেলো।

সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে মানুষ গুজবে বিশ্বাস করে সেই মতো চলতে শুরু করে। ‘অহিংসায়’ মহেশ চৌধুরিকে সকলে পছন্দ করে ভালোবাসে। সদানন্দকে জয় করার পর সে খানিকটা সাধু-সন্ন্যাসীর পর্যায়ে উঠে যায়। এরপর সদানন্দকে নিয়ে নিজের বাড়িতে যখন আশ্ৰম বোলে তখন তার মর্যাদা আরো বেড়ে যায়।

কিন্তু সদানন্দ বিপিনের আশ্রমে ফিরে গিয়ে বিভূতির সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে মহেশ চৌধুরির বাড়ি পুলিশ পাঠালে লোকের মুখে গুজব রটে যায় যে, মহেশ চৌধুরি ভালো লোক নয়, তাই সাধু সদানন্দ তাকে ত্যাগ করেছে।

সমাজে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সমাজে কোনো ঘটনা ঘটলে মানুষের মুখে মুখে তা মুখর হয়ে ফেরে। শীতল জেলে গেলে শ্যামার অবস্থাও তাই হয়। মানুষের কথা এবং কৌতূহলের শেষ নেই। শ্যামা একতলা ভাড়া দিলে সংকীর্ণ জায়গায় তাকে থাকতে হয়, রাঁধতে হয় ছাদে। শ্যামাকে বিব্রত করতে কেউ ছাড়ে নিঃ

“পাশে শুধু নকুড়বাবুর ছাদ নয়, আশেপাশের আরো কয়েক বাড়ির ছাদ হইতে উদয়াস্ত শ্যামার সংসারের গতিবিধি দেখা যাইত। প্রথম প্রথম অনেক গুলি কৌতূহলী চোখ দেখিতেও ছাড়িত না, যখন তখন ছাদে উঠিয়া নকুড়বাবুর বউ জিজ্ঞাসা করিত,

কী করছ বকুলের মা?” ( ১২, পৃ-৮০ )

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব

 

আবার বকুল আর শ্যামাও বনবিহারীর দূরাবস্থা দেখে হাসাহাসি করতো। শ্যামাদের কলকাতার ভাড়া বাড়িতে দোতলার সিঁড়ির নিচে থাকত বনবিহারী। শ্যামার পাশের বাড়ির মেয়ে বিভাকে সে পছন্দ করতো, তাই শত অসুবিধায় ও বনবিহারী মেসে না উঠে এখানে পড়ে থাকে।

বকুল সন্তান হতে মায়ের কাছে এলে তারও চোখে পরে বনবিহারীর বিভিন্ন অসংলগ্ন আচরণ। তখন তারা মা-মেয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করে। ‘জীবনের জটিলতা’ উপন্যাসে শান্তা ছাদ থেকে লাফিয়ে পরলে সমাজের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন মুখরোচক গল্প বানায়, শান্তার আত্মহত্যার কারণ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়

“কেউ বলে আত্মহত্যা, কেউ বলে খুন, অ্যাকসিডেন্টের কথা যে বলে সে একে বারে পাত্তাই পায় না দায়ী সাব্যস্ত হয় অধর। হয় সে নিজে করিয়াছে, না হয় তার অত্যাচার সহিতে না পারিয়া বেচারি বউটি নিজে, একজন বলিল, বেচারি বোলো না হে ভেতরের কথা কে জানে? হয়তো কারও সঙ্গে শ্রীমতী কোনো কীর্তি করেছিলেন, শেষে ধরা পড়ে-” ( ২খ, পৃ-১৪৩)

যশোদা আর ধনঞ্জয়কে নিয়েও সমাজে দশজনের মধ্যে কথা ওঠে। ধনঞ্জয়ের পা কাটা পরলে যশোদা তার সেবাযত্ন করে। অন্যদের প্রতি তার দরদ কমে যায়। ধনঞ্জয়ের যখন যা দরকার হয়, চাওয়ার আগেই যশোদা এনে দেয়। কুমুদিনী এসে যশোদাকে বলে:

“আর কেন ভাই, এবার মায়া কাটিয়ে বিদায় দে। লোকে যে নিন্দে করছে ভাই।” (৩থ, পৃ.-২০৩ )

যদিও এর আগে কারো অসুখ হলে যশোদা সেবা করেছে। গগনার পা কাটা গেলে চাঁদা তুলে কাঠের পা লাগিয়ে দিয়েছে, তবু এবার নিন্দার ঝড় উঠেছে। কারণ বিশালাকার যশোদার সঙ্গে ধনঞ্জয়কে মানায়। ধনঞ্জয়ের শারীরিক গঠনও বিশাল। আবার কোনো ঘটনা না ঘটলেও মানুষ একজন অন্যজনকে নিয়ে টিপ্পনী কাটে। যশোদা যেমন বিশালাকার মানুষ, নন্দ তেমনি ক্ষীণাকৃতির। নন্দর অপরিপুষ্ট শরীর, মুখে মেয়েদের মতো কোমলতা। তাই যশোদার ভাড়াটে মতি সুধীরকে বলে:

“ওই যে ওরা দুজন যশুদা আর নন্দ, এক মায়ের পেটের ভাইবোন না হয় হল, কিন্তু বাপ কী ওদের একটা রে দাদা! ” ( ৩খ, পৃ. 128 )

সমাজে যে কোনো ঘটনাই ঘটুক, রটনাটা একটু বেশি করে রটে। মানুষ তিলকে তাল করতে সর্বদাই প্রস্তুত। ‘অহিংসায় এমন ঘটনা কয়েকবার ঘটেছে। মাধবীকে অপমান করার কারণে বিভূতি সদানন্দের নাকে ঘুষি দিয়ে নাক ফাটিয়ে দিলে মহেশ চৌধুরি নিজে হাতুরী দিয়ে নিজের নাক ফাটায়। বিভূতি পাড়ার সুবিমল ডাক্তারকে ডেকে আনলে তাকে থেঁতলা নাক পরীক্ষা পর্যন্ত করতে দেয় না।

ডাক্তারের কাছে পাড়ার লোক জানতে পারে সদানন্দ আর মহেশ চৌধুরির। মধ্যে ভয়ানক মারামারি হয়েছে, দুজনেই আহত, মহেশ চৌধুরি এখন অনুতপ্ত, সে বিনা চিকিৎসায় মরে যেতে চায়। সন্ধ্যার পর অনেকে খবর জানতে আসে, মহেশ চৌধুরি সংক্ষেপে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেয়, কিন্তু মানুষের মুখে মুখে দূরের গ্রাম পর্যন্ত রটে যায়ঃ

“ছেলেকে বাঁচাইতে গিয়া মহেশ চৌধুরি সদানন্দের হাতে ভয়ানক মার খাইরাছে। একটি টু শব্দও করে নাই মহেশ চৌধুরি, সদানন্দ মার বন্ধ করিলে রক্তাক্ত শরীরে সদানন্দের পায়ে মাথা ঠেকাইয়া ছেলের হাত ধরিয়া ঘরের বাহির হইয়া আসিয়াছে। ডাক্তার ডাকা হইয়াছিল, কিন্তু মহেশ চৌধুরি বলিয়াছে, প্রভুর প্রহারের চিকিৎসা? ছি!” ( ৩খ, পৃ.-৩৫৩)

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব

 

‘চতুষ্কোণ’ আধুনিক নরনারীদের নিয়ে লেখা উপন্যাস হলেও এখানে একজন অন্যজনের কথা শুনতে উন্মুখ। সমাজে কোনো ঘটনা ঘটলে তা একজন দুজন করে অনেকের কাছে গিয়ে পৌছায়। রাজকুমার গিরির নগ্নবুকে হাত রেখেছে-এই ঘটনাটি গিরি আর তার মা ছাড়া অন্য কারো কান পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা নয়, কিন্তু দেখা যায় বিষয়টি সকলেই জানে।রাজকুমার শ্যামলের মুখে এই কথা শুনে প্রথম হোঁচট খায়। তারপর জানতে পারে মালতী, সরসী, রিণি, মনোরমা সকলেই এ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত।

বাঙালি চিরকালই হুজুগপ্রিয়। ‘অহিংসা’ উপন্যাসের শুরুর দিকে মহেশ চৌধুরি সদানন্দের দর্শনের জন্য আশ্রমে ধরনা দিলে চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লো। চারিদিক হতে নর-নারী আসতে শুরু করলো তারা তখন মহেশ চৌধুরির দর্শনপ্রার্থী। মহেশ চৌধুরি সদানন্দের আশ্রম জয় করে বাড়ি ফিরলে তার জ্বর হলো।

এ কদিন হুজুগে পড়েই দূর-দূরান্ত থেকে লোক তাকে দেখতে আসতে শুরু করলো। তারা মহেশ চৌধুরির পায়ের ধুলা চায়। মাধবীলতাকে দিতে এসে বিপিন এ অবস্থা দেখে তাদের পরামর্শ দিলো যে সকলকে একটি করে তুলসীপাতা বিতরণ করতে:

“পরদিন হইতে শশধর সকলকে একটি করিয়া তুলসীপাতা বিতরণ করিয়া দিতে লাগিল-উঠানের মঞ্চ তুলসীগাছটি দেখিতে দেখিতে দু-একদিনের মধ্যে হইয়া গেল প্রায় ন্যাড়া। যারা আসে তাদের প্রায় সকলেই চাষি মজুর, কামার-কুমোর শ্রেণির এবং বেশির ভাগই স্ত্রীলোক-তুলসীপাতা পাইয়াই তারা কৃতার্থ হইয়া যাইতে লাগিল।” (তখ, পৃ.-৩২১)

ধর্মীয় কাজে যেমন মানুষ হুজুগপ্রিয়, তেমনি দাঙ্গা-হাঙ্গামা করতেও তারা হুজুগে মেতে ওঠে। বিস্তৃতিদের পাশের গ্রামে বরের একটি চালা নাটমন্দির তোলা হয়েছে। সকল গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে এই নাটমন্দিরটি তোলা হয়েছে। কিন্তু যে কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে তাদের গ্রামের ভদ্রলোকেরা ও গ্রামের ভদ্রলোকদের মাঝে গিয়ে বসতে পারে না। জায়গা থাকলেও বসতে দেয় না।

শতরঞ্জিতে তাদের বসবার অধিকার নেই, যদিও তারা চাঁদা দেয়। শ্রীধর বিভূতির কাছে এ কথাগুলো বলে, তার দোকানে আরো কয়েকজন ছিল তারাও সমর্থন দেয়। তারা বলে আগের দিন শ্রীধর রামলোচন যাত্রা শুনতে গিয়েছিল, সামনে অনেকটা খালি জায়গা পড়ে আছে দেখে তারা সেখানে বসতে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তারা গলাধাক্কা দেয়। কে একজন রামলোচনের বাবরি ধরে টান দেয়।

তারপর তারা ভিড়ের পেছনে দাঁড়িয়ে যাত্রা শোনে। বিভূতি এ কথা শুনে বলে জন্মাষ্টমীর যাত্রায় তার সঙ্গে যেতে, সে দেখবে কেমন করে বসতে না দেয়। যাত্রার দিন দেখা গেলো নানা বয়সী প্রায় দেড়শ লোক সামনে বসার আন্দোলনে যোগ দিতে যাচ্ছে।

শ্রীধর বা রামলোচনের মতো যারা ফতুয়া গায়ে যাত্রা শুনতে যায় এরা সে স্তরের মানুষ নয়। এরা হয়তো চাঁদাও দেয় নি। গ্রামের সঙ্গে গ্রামের প্রতিযোগিতা থাকে, একগ্রাম অন্য গ্রামকে হিংসা করে। শ্রীধর বা রামলোচনের হুজুগে পরে এতোগুলো মানুষ আসে। এরা অন্য সময় হয়তো যাত্রা শুনতেও যায় না। সামনে সবার মতো সাহসও এদের নেই। কিন্তু নিতান্তই হুজুগে পরে এরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।

সুযোগ পেলে মানুষ দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। এর যৌক্তিকতা বিচার না করেই। নন্দনপুরের নাটমন্দিরে ভদ্রলোকদের আসনে বিভূতির গ্রামের ভদ্রলোকদের বসার ব্যবস্থা বিভূতি করে দেবে প্রতিশ্রুতি দিলে প্রায় দেড়শ লোক বিভূতির সঙ্গে রওনা হয়। এদের দেখেই বিভূতি বুঝতে পারে অপ্রীতিকর কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

সে তাদের বুঝিয়ে নিয়ে যায় যে গালাগালি হাতাহাতি চলবে না, ধীরস্থির শান্তভাবে সকলে সামনের দিকে জেঁকে বসবে, তারা অপমান করলেও এরা কিছু বলবে না:

“আমাদের ভদ্র ব্যবহারে ওরাই লজ্জা পাবে। ওরা যদি ছোটলোকোমি করে আমরা কেন ছোটলোক হতে যাব?” ( ৩খ, পৃ.-৩৮৯)

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ গুজব

 

বিভূতির সঙ্গে ভলেন্টিয়ারদের কথা হওয়ার সময় তিন-চার হাত তফাত হতে বিভূতির মুখগহ্বরটিকে পিকদানি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, বিভূতি তাকে কিল চড় ঘুষি দিতে থাকে আর একজন পেছন থেকে বিস্তৃতির পা ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়, বিভুতি মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। একজন চিৎকার করে মার শালাদের মার মার শব্দে এলা প্রকম্পিত হয়।

অধিকাংশ লোক যেন দাঙ্গার জন্যই এসেছিল, কোথা হতে ইটপাটকেল, লাঠি আসলো মুহুর্তের মধ্যে বেধে গেল দাঙ্গা। সে সময় বিভূতির স্থাপিত ব্যায়াম সমিতির সদস্যরা এসে মারামারি থামিয়ে দিলো। কিন্তু দাঙ্গা সেখানেই থেমে গেল না। এক গ্রামের লোক অন্য গ্রামের লোককে একা পেলে মার দিতে শুরু করে।

মহেশ চৌধুরি ভালো করে সব জানতে গেলে কোনো খোঁজ নেওয়ার আগেই নন্দনপুরের কয়েকজন লোক তাকে মারধর করে। পিতার মারের বদলা নিতে যারা মেরেছে তাদের বিস্তৃতি দল বেঁধে খুঁজতে শুরু করলো। সদানন্দের আশ্রমে কীর্তন শুরু হয়েছে। অপরাধিরা সেখানে কীর্তন শুনছে। বিভূতি তাদের ডেকে পাঠালো, কিন্তু কেউ এলো না।

তখন বিভূতি জেদি হয়ে পড়ে “বিভূতি সোজা হইয়া দাড়াইয়া সকলকে সম্বোধন করিয়া বলিল, এই পাঁচটি গু মিলে কাল সকালে আমার বাপকে বিনা দোষে প্রায় খুন করে ফেলেছে। আজ সকাল পর্যন্ত বাবা অজ্ঞান হয়েছিলেন। আপনাদের সকলের সামনে আমি এদের শাস্তির বিধান করছি, চেয়ে দেখুন। ” ( তখ, পৃ. ৩৯৩)

বিভূতি তাদের মারতে শুরু করলো। কেউ তাদের দিকে এলো না। কিন্তু সদানন্দের হাঁকে আবার দাঙ্গা শুরু গয়ে গেলো। এমন সময় হাতে মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় মহেশ চৌধুরি আশ্রমে এসে বিভূতিকে থামতে বললো, এবার মহেশের ভক্তরা থামার পরিবর্তে আরো বেশি করে মারামারি শুরু করলো।

এ দাঙ্গায় বিভূতিসহ আরো কয়েকজন মারা গেল। দাঙ্গায় আরো কিছু ঘটনা ঘটে। মেয়েদের মধ্যে কয়েকজন ঢুকে মেয়েদের গহনা ছিনিয়ে দেয় আবার আশ্রমের বাগানে নিয়ে গিয়ে একটি এগারো বছরের মেয়েকে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে। এখানে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাস্তবজীবনকে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন:

খবরের কাগজে যা রোজ প্রকাশিত হয় তা যে সব সময় সত্য নয় তারও একটি সুন্দর নিদর্শন এই উপন্যাসে আছে। আশ্রমে দাঙ্গার ব্যাপারে খবরের কাগজে যা ছাপা হলো তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৩১

উপন্যাসের বক্তব্য সম্পর্কে আহমদ শরীফ বলেছেন:

“আমাদের মনে রাখতে হবে, সাহিত্য শুধু জনচিত্তের বিশ্লেষণ করবে না, প্রচলিত সমাজচিত্র দেবে না, সমাজকে নিয়ন্ত্রিতও করবে, দিশাও দেবে পরোক্ষভাবে, প্রভাবিত করবে অতি সন্তর্পণে। ৩২

মানিকের অভিসন্ধিও ছিল তাই। তিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের ওপর আলো ফেলেছেন সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে।

Leave a Comment