আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ। যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ এর অন্তর্গত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমাজ
নিজের জীবনকে শিল্পমাধ্যমে দেখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন। উপন্যাস পূর্ণাঙ্গ জীবনবোধক শিল্পমাধ্যম। সামগ্রিক জীবনবোধই মানুষের অন্বেষণ :
“আলো, রং, আঙ্গিক, অবয়ব, বাতাসের নিশ্বাস, জীবনের গান, প্রাণী জগতের সৌন্দর্য এবং অসৌন্দর্য, রক্তমাংসে গড়া নরনারীর কাজকর্ম, স্বপ্ন, আশা, হতাশা এইসব নিয়েই তো শিল্প।
তাই সমাজকে এড়িয়ে সাহিত্য রচনা অসম্ভব। চর্যাপদের কাল থেকেই সাহিত্যে সমাজের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ‘কানেট চৌরি নিল অধরাতী” (চর্যা নং-২), ‘নগর বাহিরে ডোম্বি তোহোরি কুড়িআ/ হুই ছোই যাইসি ব্রাহ্ম নাড়িআ।।” (চর্যা নং-১০) প্রভৃতি পদে সমাজের চিত্র উঠে এসেছে।

মানুষ দেবতার মূর্তি গড়ে মানুষের আদলে। কারণ দেবতাকে সে দেখেনি, দেখেছে মানুষ। রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনী সেই সময়ের মানুষের ঘরের কাহিনী-ই, কেবল কাল্পনিক কিছু রং দেওয়া হয়েছে। ভারতচন্দ্রও বলেছেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’
উনবিংশ শতকে যে আধুনিক যুগের সূচনা, তার প্রধানতম লক্ষণ মানুষের বাস্তব জীবন ও সমাজিক বোধে যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ। সামাজিক দায়বদ্ধতারই লেখক লেখেন:
বাস্তব জগৎই উপন্যাসের বিষয়ীভূত অনুভাবের উৎস। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজেই তার আশ্রয়। কালের বিবর্তনে এই সমাজ পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনশীল সমাজের বিভিন্ন পর্যায় আমরা দেখি বিভিন্ন কালসীমার লেখকের লেখনিতে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাল তার উপন্যাসে স্পষ্ট। সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামী বলেছেন:
“বিজ্ঞান ও সাহিত্য, বুদ্ধি ও কল্পনা পরস্পরের হাত ধরাধরি করে সমাজের ঐতিহাসিক অগ্রগতির যাত্রাপথে মানুষের মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে। সঙ্গত কারণে সাহিত্যে কল্পনার ছোঁয়া থাকলেও সমাজ-পরিবেশ সাহিত্যের প্রধানতম উপকরণ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পূর্ববর্তী সাহিত্যের ত্রুটি সংশোধনের নিমিত্তে উপন্যাস রচনা আরম্ভ করেছেন:
ক্রমে ক্রমে সাহিত্যের এই অসম্পূর্ণতা, বাস্তব জীবন ও সাধারণ বাস্তব মানুষের অভাব বড়ই পীড়ন করতো। সমাজজীবনে বাস্তবের এই অভাববোধ পূরণের জন্য মানিকের আজন্ম সাধনা।