মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহিংসা উপন্যাস

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহিংসা উপন্যাস । যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচটি উপন্যাসে জীবন ও সমাজ এর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে বিষয় বৈচিত্র্য এর অন্তর্ভুক্ত।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহিংসা উপন্যাস

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহিংসা উপন্যাস

ধর্ম নিয়ে ব্যবসা এবং যৌন বিকারের কাহিনী অহিংসা (১৯৪১) উপন্যাস। বিপিন ও সদানন্দ দুই বন্ধু। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন বিপিন আশ্রম গড়ে তোলে এবং সদানন্দকে এনে সেই আশ্রমের গুরুর পদে বসায়। সদানন্দের চেহারাও সাধুর মতো। আশপাশের গ্রামের বহু নরনারী তার দর্শনের জন্য, বাণী শোনার জন্য আসে।

লেখক এ উপন্যাসে ধর্মের ভণ্ডামি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন। মহীগড়ের রাজা সাহেবের দান এ জায়গা। রাজপুত্র মাধবী নামের এক কুমারী তরুণীকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসে আশ্রমে। বিপিন তাকে সদানন্দের ঘরে রাখে। সাম্প বিপিনের ওপর রেগে যায়। তারপর মাধবীকে দেখে সদানন্দও লোভী হয়ে ওঠে। মাধবী কুমারীত্ব হারায়। রাজপুত্র আর মাধবীর বনিবনা না হলে মাধবী আশ্রমেই অন্য মেয়েদের সাথে থাকতে শুরু করে। কিন্তু সদানন্দের নজর নিবন্ধ মাধবীর ওপর।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহিংসা উপন্যাস

 

এ নিয়ে সদানন্দ আর বিপিনের ঝগড়া হয়। মহেশ নামে একজন সন্ত্রস্ত লোক সদানন্দর অন্ধ ভক্ত, কিন্তু রাজা মহেশকে পছন্দ করে না বলে আশ্রমে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। মহেন একগুয়ে। সে আশ্রমে একদিন একরাত অনশন করে মাধবীর মধ্যস্থতায় দাবি আদায় করে। আস্তে আস্তে সদানন্দ বিপিন দুজনই মাধবীর প্রতি কামার্ত হয়ে ওঠে। বিপিন অবস্থা বুঝে মাধবীকে মহেশ চৌধুরীরর বাড়ি রেখে আসে। মহেশের ছেলে বিবৃতি। সে সমাজকর্মী অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, জেল খাটে।

মহেশ তাকে নিয়ে আশ্রমে যায় এবং সদানন্দকে প্রণাম করতে বলে। বিভূতি রাজি হয় না। সদানন্দ মহেশকে চড় মারে। পিতার অপমানে রাগান্বিত হয় বিভূতি, তবু পিতার কথা মানতে হয়। তারা বাড়ি ফিরে আসে। অন্যদিকে সদানন্দ আর বিপিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছেই। সন্ধ্যায় সদানন্দ মহেশের বাড়ি আসে, বিপিন তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সদানন্দকে কেন্দ্র করে মহেশের বাড়িতে আশ্রমের কাজ চলতে থাকে। মাধবীর প্রতি সদানন্দের তীব্র লালসা সত্ত্বেও মহেশ মাধবী আর বিভূতির বিয়ে দেয়।

কিছুদিনের মধ্যে বিপিন বুঝতে পারে repository সদানন্দকে তার দরকার। মাধবীকে পাওয়ার শর্ত দিয়ে সদানন্দ বিপিনের সাথে আশ্রমে ফিরে যায়। মহেশের বাড়িতে পুলিশ তল্লাসিতে আসে। মাধবী সদানন্দের কাছে কৈফিয়ত চাইতে গিয়ে নিজেকে ধরা দেয়। মহেশ সব বুঝতে পারে। গ্রামে কীর্তনের আসরে বিভিন্ন অনিয়মকে কেন্দ্র করে বিস্তৃতির সাথে মারামারি হয়, তার জের ধরে পাঁচজন মিলে মহেশকে মারে । বাবার প্রহারকারীদের খুঁজতে বিভূতি তৎপর হয়ে ওঠে।

 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহিংসা উপন্যাস

 

গ্রামে কীর্তন না হয়ে আশ্রমে কীর্তন হচ্ছিল। সেখানে সে প্রহারকারীদের খুঁজে পায়। বিস্তৃতি ওই পাঁচজনকে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু সদানন্দের মনে হয় বিভূতিই মাধবীর এক মাত্র মালিক। সদানন্দের কারসাজিতে শুরু হয়। মারামারি। এইখানে বিভূতি মারা যায়। মাধবী উত্তেজিত হয়ে ওঠে কিন্তু মহেশ কিছু বলে না। সদানন্দের আশ্রমের চেয়ে মাধবীর দিকে ঝোঁক বেশি হতে থাকে।

অবশেষে বিপিন মহেশকে আশ্রমের ভার নিতে বললে মহেশ রাজি হয়। মহেশ মাধবীকে বলে সদানন্দ আর মাধবীকে একসাথে কোথাও পাঠিয়ে দিতে। মাঝরাত্রে আশ্রমের পেছনের ঘাটে বাঁধা নৌকায় করে সদানন্দ আর মাধবী চলে যায়। শুরু হয় মহেশের আশ্রম জীবন। এ উপন্যাসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়েছেন মুখোশধারী ধর্ম ব্যাবসায়ী এবং ফ্রয়েডীয় তত্ত্বের তীব্রতা।

Leave a Comment